সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসনে বিচার শুরু

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৪৪

যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসনে বিচার শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর একটায় বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগেই এই বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌছেছিলেন সিনেটররা। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। দেশটির ইতিহাসে ট্রাম্প প্রথম প্রেসিডেন্ট, যার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বারের মতো অভিশংসনের বিচার চলছে। এছাড়া ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরও প্রথম বারের মতো কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিচার হচ্ছে। খবর সিএনএন, রয়টার্স ও ডয়চেভেলের

বিচার শুরুর প্রথমেই উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিনিধি পরিষদের অভিশংসন বিষয়ক ম্যানেজার (ডেমোক্র্যাট) জেমি রাস্কিন গত ৬ জানুয়ারি সমাবেশে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ক্যাপিটল হিলে হামলার ভিডিও দেখান। তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ভিডিওতে ওই দিনের পুরো দৃশ্য দেখিয়েছেন। ভিডিওতে সময় অনুযায়ী হামলার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মূলে রয়েছে গত ৬ জানুয়ারি মার্কিন পার্লামেন্ট ভবনের ওপর হামলার ঘটনা। ট্রাম্প সরাসরি সেই বিদ্রোহে প্ররোচনা দিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে হামলার দিন ইলেক্টোরাল ভোট গণনায় বাধা সৃষ্টির জন্যও তিনি দায়ী। সোমবার বিচার শুরুর ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছিলেন সিনেটেররা। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চাক শ্যুমার বলেছেন, দুই হাউজের ম্যানেজার, ট্রাম্পের আইনজীবী, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সিনেটে ভোটের পর বিতর্ক হওয়ার কথা। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ট্রাম্পের বিপক্ষে গেলে অভিশংসনে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়ে শ্যুমার বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিনেটের সংখ্যালঘিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককোনেল আবার বলেছেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুই হাউজ সম্মতি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই গোটা প্রক্রিয়াটি শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

মূল অভিযোগের জবাব দেওয়ার বদলে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আদৌ ইম্পিচমেন্ট চালানো যায় না এমন যুক্তিকে হাতিয়ার করছেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। রিপাবলিকান দলের বেশির ভাগ সংসদ সদস্যও একই কারণে ইমপিচমেন্টের বিরোধিতা করছেন। সিনেটে দলের ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৪৫ জনই প্রাথমিক ভোটে এমন অবস্থান নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সবার আগে সাংবিধানিকতার যুক্তি তুলে ধরে মামলা খারিজ করার চেষ্টা করতে চায় ট্রাম্প শিবির। অভিশংসন মামলা সফল করতে হলে সিনেটে অন্তত ১৭ জন রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন। কিন্তু এটা সম্ভব হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট অফিস ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনি ফলাফল পালটানোর তদন্ত শুরু করেছে। গত ২ জানুয়ারি তিনি এক কর্মকর্তাকে ফল উলটাতে ফোন করেছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন বিচার বিভাগ ট্রাম্পের নিয়োগ করা অ্যাটর্নি জেনারেলদেরকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।