শতভাগ বিদ্যুতায়নের উপজেলা ঘোষণার এক বছর পরও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিদ্যুত্সংযোগ বঞ্চিত রয়েছে চার গ্রামের বাসিন্দা। এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি, কালেঞ্জি গ্রাম, কোনাগাঁও গ্রামের একাংশ এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা পুঞ্জিতে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিদ্যুতায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষণা করা হয়।
বিদ্যুতের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছে খাসিয়া সম্প্রদায়। সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় অনেক কষ্ট করে টিলার নিচের কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে টিলার ওপরে তুলে আনতে হয় তাদের। টিলায় বৈদ্যুতিক পাম্প বাসানো গেলে পানি তোলার কষ্টসহ জীবনযাত্রা সহজ হতো তাদের। কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান রিতেংগেন খেরিয়াম জানান, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করেছে। অথচ কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি, কালেঞ্জি গ্রাম এবং কুরমা পুঞ্জি এখনো বিদ্যুতায়নের আওতায় আসেনি। কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারের সদস্যরা দৈনন্দিন নানা সমস্যায় জর্জরিত। বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ তিনটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ বঞ্চিত গ্রামে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অথচ এখন পর্যন্ত আমার ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের একাংশ, কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জি গ্রাম বিদ্যুতের সুবিধাবঞ্চিত।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশেষ প্রয়োজনে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন, রাস্তা নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কাজে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের অনাপত্তি প্রয়োজন। বিদ্যুত্সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে জমির মালিকানাসংক্রান্ত প্রমাণপত্রও দরকার। এসব জটিলতায় খাসিয়া সম্প্রদায়ের দুটি পুঞ্জি ও একটি গ্রামে বিদ্যুত্সংযোগ স্থাপনে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে রাজকান্দি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য ইতিপূর্বে বন বিভাগ একটি জরিপ সম্পন্ন করলে বিদ্যুতায়ন কাজ শুরু করা সম্পর্কে তার কাছে বন বিভাগের কোনো নির্দেশনা আসেনি। সংরক্ষিত বনে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র প্রয়োজন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মীর গোলাম ফারুক বলেন, কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি, কুরমা পুঞ্জি ও কালেঞ্জি গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজন খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিও এনে রাখে। তবে বনাঞ্চল এলাকা হওয়ায় বন বিভাগের আপত্তির কারণে তিনটি গ্রামকে এখনো বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী মহোদয়ের নজরে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটা সমাধানে আসতে পারে।
ইত্তেফাক/এমআর
