আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা স্ব স্ব প্রতীক নিয়ে শেষ সময়ের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।তারা আটঘাট বেঁধে নানা কৌশলে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের মন জয় করতে চেষ্টা করছেন। সমান তালে চলছে মিটিং-মিছিল ও পথসভা। নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পৌর সভার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও করছেন।
এবারের পৌরসভা নির্বাচনে মোট ৫ জন মেয়র পদপ্রার্থী রয়েছেন। তারা হচ্ছেন- আ’লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী নুরুন্নবী সরকার, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আলী আকবর জব্বার, স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীকের মো. হুমায়ুন খালিদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের জামিল আল মামুন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীকের মো. হাসান হাসনাত মিশু।
সরেজমিনে জানা গেছে, কালিহাতী পৌরসভায় মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। নৌকার প্রার্থী নুরুন্নবী সরকার আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি। বয়সে তরুণ এই প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী নেতৃবৃন্দ। তারা আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নুরুন্নবী সরকার জানান, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নৌকার ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জনগণ তাকে ভোট দেবেন। তিনি নির্বাচিত হতে পারলে কালিহাতীকে একটি ডিজিটাল পৌরসভায় রূপান্তরিত করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অন্যদিকে, ধানের শীষের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আলী আকবর জব্বার কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। তার রয়েছে কালিহাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর প্রশাসক ও দুই বার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। তিনি দীর্ঘদিন পৌরবাসীর সেবা করেছেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। করোনাকালে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন, নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা উগ্রতা ও ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহন করা হলে তিনি আবারও নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপর তিনজন মেয়র প্রার্থী মো. হুমায়ুন খালিদ, জামিল আল মামুন ও মো. হাসান হাসনাত মিশু নির্বাচনী মাঠে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।
কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা বলেন, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। তবে সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠেয় কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন ছাড়াও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ১০জন, ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১৪ তারিখ নির্বচনে ১২টি কেন্দ্রে মোট ২৮ হাজার ৬৫৫জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১৪ হাজার ৬৩৯ জন এবং পুরুষ ১৪ হাজার ১৬ জন।
ইত্তেফাক/এমআর
