৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি, হয়েছে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩৫

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর কোন নির্বাচন হয়নি, হয়েছে প্রহসনের নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি, এটা আওয়ামী লীগের পরাজয়। এখানে পরাজিত হয়েছে মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যেবোধ। এখানে পরাজিত হয়েছে দেশ। 

তিনি নেতাকর্মীদের বলেন, জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে হবে। কেউ যদি মনে করেন, এককভাবে সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক বিজয় লাভ করবেন, তাহলে তিনি সত্যটা উপলব্ধি করতে পারছেন না।

বুধবার দুপুরে বগুড়া শহরতলী ঠেঙ্গামারায় হোটেল মম ইন-এ ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে বগুড়ায় যাত্রা বিরতিকালে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পরে তিনি এই প্রথম তার নির্বাচনী এলাকায় এসে যাত্রা বিরতি করেছেন। যাত্রাবিরতি উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। 

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেন-নির্বাচনের পরে আসতে না পারার জন্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন গভীর সংকটে। ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে তাতে সব ধ্বংস করা হয়েছে। নির্বাচন নামে যে প্রতিষ্ঠান তাকেও ধ্বংস করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির চিত্র দেখেছে। দেশে বিদেশে সবাই জানে,মূলত ৩০ ডিসেম্বরে কোন ভোটই হয়নি বাংলাদেশে।  আওয়ামী লীগ সংবিধানকে ধ্বংস আর মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ছিল, তারা সেটা নষ্ট করে দিয়েছে। পরাজিত হয়েছে মানুষের সমস্ত সুস্থ চিন্তা। তিনি বলেন,২০১৪ সালে আমরা নির্বাচন বর্জন করেছিলাম। আজ প্রমাণ হয়েছে সেদিন আমাদের নির্বাচন বর্জন সঠিক ছিল। তিনি এজন্য একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। 

আরও পড়ুন: ব্রেক্সিট ঝামেলা এড়াতে যুক্তরাজ্য সদরদপ্তর স্থানান্তর করবে সনি

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সামনের দিনে কিভাবে চলবে। এখন হতাশ হলে চলবে না। নির্বাচন শেষ হয়েছে। কাজ শেষ হয়নি। গ্রামে গিয়ে জনগনের কাছে যেতে হবে। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরে আনতে মাঠে নামতে হবে। আর গণতন্ত্রের জন্য নেতৃত্ব দিতে হলে বগুড়াকে দিতে হবে।  আমাদের এখন একটাই কাজ তারেক রহমানকে দেশে আনা এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। যতক্ষণ পর্যন্ত এই কাজ না হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরো যাবো না। 

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বগুড়া পৌর মেয়র অ্যাড. একেএম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাফতুন আহমেদ রুবেল, হামিদুল হক হিরু প্রমুখ। 

ইত্তেফাক/এমআই