ইটভাটাগুলো তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে নগরী থেকে অনেকটা দূরে এবং প্রায় গ্রামাঞ্চলে। এর কারণ ইট তৈরির কাঁচামাল কাদামাটি নগরীতে পাওয়া যায় না। তাই বেশিরভাগ ইটভাটা তৈরি হচ্ছে কৃষিজমির আশেপাশে। যেখানে বর্ষা মৌসুমে স্রোতের সঙ্গে এসে সোনালি পলি জমা হয়ে থাকে। সেই পলি শুকানোর আগেই বেশিরভাগ কৃষককে ভুলভাল বুঝিয়ে ইটভাটার মালিকেরা ‘কাদামাটি’ বলে তাদের প্রয়োজনমতো কেটে নিয়ে ইট তৈরির কাজে লাগায়। অথচ এই কাদামাটি বা পলিমাটিই উর্বরতার প্রধান উপাদান। যা না থাকায় পরবর্তী সময়ে প্রচুর সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করেও কৃষককে গুনতে হয় বড় অঙ্কের লোকসান। একটা সময় জনসাধারণকেও এর ফল ভোগ করতে হয়। বছরের পর বছর ইটভাটার আগুনের এমন লেলিহান শিখায় তলিয়ে যাচ্ছে হাজারো কৃষকের স্বপ্নের সোনালি ফসল। কিংবা জমিতে ফসল না হওয়ায় ইটভাটার মালিকের কাছে সেটা নামমাত্র টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে গরিব অসহায় কৃষক। একটি ইটভাটা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ৬ একর জমি নিতে পারবে বলে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে দেখা যায় ২০-৩০ একর। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে সাধারণত ব্যবহার করা হয় জ্বালানি কাঠ ও কয়লা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কয়লার দাম বেশি হওয়াতে কয়লার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কাঠের গুঁড়ো, ফার্নেস অয়েল এমনকি কখনো কখনো গাড়ির বাতিল টায়ারের অংশ। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে কালো ধোঁয়া এবং আমাদের পৃথিবীর ওজনস্তরের ক্ষতি দিন দিন বাড়ছে। কিছু ইটভাটায় কয়লার ব্যবহার দেখা গেলেও তার গুণগত মান এতটাই নিম্ন যে তার থেকে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে ছাই, ধুলা ও সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো মারাত্মক সব গ্যাস। ইটভাটাগুলোতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা মানছেন হাতেগোনা কয়েকজন। এই জ্বালানি কাঠের জোগান দিতে গিয়ে আমাদের বনভূমি উজাড় হচ্ছে নির্বিচারে। তাই অবৈধ ইটভাটা নির্মূল করতে হবে এবং জোর দিতে হবে পরিবেশবান্ধব ইট উত্পাদনের দিকে।
মো. মারুফ হাসান
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
