পৌরসভা নির্বাচন
ইত্তেফাক ডেস্ক
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের উত্সবমুখর প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পৌর এলাকা। তবে ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে ভোটারদের মধ্যে নানা রকম শঙ্কা রয়েছে। এদিকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ নজরদারি ও কঠোর অবস্থান না থাকলে ভোট চলাকালে এবং ভোট পরবর্তী সংঘর্ষ সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন অনেক ভোটার। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া :ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচারণা। পৌর এলাকায় বিরাজ করছে উত্সবের আমেজ। প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারের কাছে আর ভোটাররা বলছেন, ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে তাদের আশঙ্কার কথা। নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র নুরুল হক ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা মো. শফিকুল ইলসাম খান এবং বিএনপির একক প্রার্থী জয়নাল মো. আবেদীন আব্দু। আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে এই প্রথম ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পান ব্যবসায়ী তফসির আলী বলেন, ‘অহন পর্যন্ত কেউই আইয়া মেশিন দিয়া ভোট কেমনে দেয়ন যায় বোঝায় নাই। ভোটকেন্দ্রে যেমনে কইবো, এমনেই ত দিতে অইব। পরে দেখবাইন নিজের পছন্দের প্রার্থীরে ভোট দিতে পারতাম না।’ স্থানীয় বাসিন্দা মুসলে উদ্দিন বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার ভোটাররা সঠিক জায়গায় ভোট দিতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও আখাউড়া পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কর্মকর্তাদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। যাতে নির্বাচনের দিন ভোটারদের সঠিকভাবে ভোট দিতে সাহায্য করতে পারেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘তিন দিন ধরে এলাকায় মাইকিং করা হবে স্থানীয় নির্বাচন অফিসে এসে ইভিএম ভোট সম্পর্কে জানতে।’
কচুয়া (চাঁদপুর) :নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কচুয়া পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পৌর এলাকা ছাড়াও নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়। এদিকে দুপুর ২টা বাজলেই মাইকের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠে পৌর এলাকা। মাইকিং ছাড়াও কেউ করছেন পথসভা আবার কেউ করছেন উঠান বৈঠক। নির্বাচনে মেয়র পদে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবীব এবং বিএনপি থেকে সাবেক দুই বারের নির্বাচিত মেয়র হুমায়ুন কবির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) : প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারণায় পাটগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চার জন মেয়র, ছয় জন সংরক্ষিত ও ২৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম সুইট, বিএনপির মোস্তফা সালাউজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সুমন মিয়া। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ভোটার বলেন, প্রশাসনের সর্বোচ্চ নজরদারি ও কঠোর অবস্থান না থাকলে ভোট চলাকালীন এবং পরবর্তী সংঘর্ষ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন নাহার বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বে থাকবে।
হোমনা (কুমিল্লা) :হোমনা পৌরসভায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সহসভাপতি হাজি আবদুল লতিফ এবং ইসলামী আন্দোলনের পৌর সভাপতি মুফতি আবদুল হাকিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কালিহাতী (টাঙ্গাইল) :কালিহাতী পৌরসভায় মেয়র এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে শেষ সময়ের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সমান তালে চলছে মিটিং-মিছিল ও পথসভা। পৌরসভা নির্বাচনে পাঁচ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের নুরুন্নবী সরকার, বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আলী আকবর জব্বার, স্বতন্ত্র মো. হুমায়ুন খালিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামিল আল মামুন এবং স্বতন্ত্র মো. হাসান হাসনাত মিশু।
