অর্থ-সম্পদলোভীরা টিকে থাকতে পারেনি : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৮

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালে হত্যার পর ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু বানিয়েছিল। জনগণের ভাগ্য বদলের চেয়ে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর মানুষ বুঝতে পেরেছে—ক্ষমতা জনগণের জন্য, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। গতকাল বুধবার সকালে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। যুবলীগের নেতাকর্মীদের জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদর্শবিহীন রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুবলীগের নেতাকর্মীদের বলব জাতির পিতার আদর্শ যদি কেউ বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করে তাহলে সেই রাজনীতিতে টিকে থাকে। কিন্তু যে রাজনীতি করতে গিয়ে লোভের বসবর্তী হয়, অর্থ-সম্পদ যাদের কাছে বড় হয়ে যায়, তারা কিন্তু বেশি দিন টিকতে পারেনি এবং পারে না, এটা বাস্তবতা।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিএনপির রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বলেন, ২ হাজার কোটি টাকা থাকলে কেউ কোনো দিন তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না বলে তারা ভেবেছিল। কিন্তু তাদেরকেও সরে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বড়াই করে আমার কথাই বলেছিলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা কোনো দিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবে না। তার কথাটি তার বেলাতেই ফলে গেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা তার ছেলেকে (তারেক রহমান) নিয়ে বানিয়েও কিছু করতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘একইভাবে আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না-এটাও তার (খালেদা জিয়া) ঘোষণা ছিল। আল্লাহর রহমতে শত্রুর মুখে চাই দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রথমবার পাঁচ বছর আর এর পরে টানা ১২ বছর ক্ষতায় আছে বলেই জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। তিনি এ সময় বারবার ভোটে নির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতির পিতার নির্দেশে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে যুবসমাজকে কাজে লাগানোর জন্য ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা এবং তার পরিবারের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। করোনার কারণে এবার যথাসময়ে এই অনুষ্ঠান হতে পারেনি। এ দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত সবসময়ই চলেছে এবং এ দেশের তথাকথিত সুবিধাবাদী শ্রেণি তখন এবং পরবর্তীকালেও তাদের অজানা কারণে সহযোগিতা করে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধকালীন যারা বিরোধিতা করেছে, হানাদারদের তোষামোদি করেছে, তাদের হাতে মা-বোনদের তুলে দিয়েছে, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী গড়ে তুলেছে এবং এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছিল তাদের ষড়যন্ত্র কখনো থেমে থাকেনি। যেসব আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি তাদের এই চক্রান্ত অব্যাহত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির জন্য ১২ বছর কিছু না। কিন্তু তার পরও আমরা যেভাবে এই দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, পথ দেখিয়ে যাচ্ছি—যদি এই পথ ধরেই এগুনো যায় তাহলে এ দেশ অবশ্যই উন্নত-সমৃদ্ধ হবে। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে কারো কোনো কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়ে অনেকের অনেক কথা শুনতে হয়। কোনো দিকে কান দিলে চলবে না। মানুষের ভয়টা দূর করতে হবে।

সাবেক যুবলীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি এবং হারুনুর রশীদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন নিখিল সঞ্চালনা করেন।

‘যুব উদ্যোক্তা সম্মেলন’ ও ‘কর্মসংস্থান মেলা’ করবে যুবলীগ :যুবকদের উত্সাহ যোগাতে এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ‘যুব উদ্যোক্তা সম্মেলন’ ও ‘কর্মসংস্থান মেলা’ কর্মসূচি পালন করবে যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘আমরা কতগুলো কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে, একটি যুব উদ্যোক্তা সম্মেলন ও জব ফেয়ার। এছাড়া কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও গবাদিপশু বিতরণের কর্মসূচি নিয়েছি।’

বয়সের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব : যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে ৫৫ বছর বয়সের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে দিতে সংগঠনটির সাংগঠনিক নেতা শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। মির্জা আজম শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কোনো কর্মী অবসর নিতে চায় না। আমৃত্যু আপনার সঙ্গে কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে যুবলীগের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে একটি ‘সাবেক যুবলীগ ফোরাম’ করারও অনুমতি প্রার্থনা করেন মির্জা আজম।