দেশে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, যে কোনো মূল্যে এই ফাঁকি বন্ধ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সেরা করদাতাদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণ কর দিতে চায়, কিন্তু আমরা ঠিকমতো আদায় করতে পারছি না। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। যে কোনো উপায়ে ফাঁকি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় বাড়বে না। অন্যদিকে আদায় বাড়াতে বিদ্যমান করের হার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, করের হার যদি বেশি থাকে, তাহলে আদায় কম হবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে করের হার কত, তা বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নিতে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশনা দেন।
জাতীয় পর্যায়ে ১৪১ জনসহ ৫২৫ জনকে সেরা করদাতা ঘোষণা করে এনবিআর। গতকাল দেশব্যাপী এসব করদাতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিড় এড়াতে জাতীয় পর্যায়ে করদাতাদের মধ্য থেকে ব্যক্তি ও কোম্পানি মিলিয়ে ১০ জনকে রাজস্ব ভবনের অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়। বাকি করদাতাদের সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত ঐ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে রাজস্ববান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য যা কিছু করা দরকার, তা-ই করা হবে। এ বিষয়ে কারো সঙ্গে আপস করা হবে না। সেরা করদাতার সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থনীতির আকারের তুলনায় কর আদায় খুবই কম। জিডিপিতে করের অবদান ১০ শতাংশ। এটি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপির তুলনায় আমাদের কর আহরণ হওয়া উচিত কমপক্ষে ১৭ শতাংশ। এজন্য এনবিআরের অটোমেশনের দুর্বলতাকে দায়ী করে তিনি বলেন, অগ্রগতি তেমন হয়নি। আদায় বাড়াতে অটোমেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে বাধা আসবে, কিন্তু তা উপেক্ষা করে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় বর্তমান সরকারের সময়ে রাজস্ব আদায়ে অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়লেও খাত বাড়েনি তেমন। গুটি কয়েক খাতের ওপর আদায় নির্ভরশীল এখনো। নতুন নতুন খাত চিহ্নিত করে আদায় বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে এনবিআরকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। স্বাভাবিকের তুলনায় রাজস্ব আদায় কম বলে স্বীকার করেন এনবিআরের চেয়ারম্যানও। রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআরের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ছে, তবে আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এজন্য কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করা, ভয়ভীতি দূর করা, অনলাইন রিটার্ন জমা তথা কর পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ব্যক্তি খাতের পাঁচ জন ও কোম্পানি খাতের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা পাওয়া পাঁচ ব্যক্তি হলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, হাজি মো. কাউছ মিয়া, হোসনেয়ারা হোসেন, রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন ও লায়লা হোসেন। এছাড়া কর অঞ্চল-৫-এ আলাদা অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ আট করদাতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে তরুণ করদাতা ক্যাটাগরিতে রয়েছেন অর্থমন্ত্রীর কণ্যা নাফিসা কামাল।
