চুনারুঘাট পৌরসভায় সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩১

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভা নির্বাচনের আর মাত্র দুদিন বাকি। ইভিএম পদ্ধতিতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন পৌর এলাকার নারী-পুরুষ। তবে এ নির্বাচন ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। বিশেষ করে পৌর এলাকায় ‘অস্বাভাবিক’ পুলিশি তত্পরতা ভাবিয়ে তুলেছে ভোটারদের। একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করার অভিযোগ উঠেছে খোদ পুলিশের ওপর। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

চুনারুঘাট পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন জন। এরা হলেন—আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক      সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুবেল, দুবারের নির্বাচিত মেয়র বিএনপির প্রার্থী নাজিম উদ্দিন ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মো. বাছির আহমদ। তবে নাজিম ও রুবেলের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে বলছেন ভোটাররা।

সরেজমিনে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম রুবেলের সমর্থকরা জয়ী হতে মরিয়া। সাইফুল ইসলাম জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পৌরসভার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক সরকারি সহযোগিতা পাবেন। নির্বাচিত হলে চুনারুঘাটকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে চান।  অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী নাজিম উদ্দিন দুবার পৌর মেয়র থাকার সুবাদে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা মাথায় নিয়ে কাজ করেছি। তাই ভোটাররা তাকে এবারও মূল্যায়ন করবেন। তিনি অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে একটি আধুনিক পৌরসভা গড়তে চান।

জানা গেছে, চুনারুঘাট পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচারণা জমজমাট হয়ে উঠলেও গত কয়েক দিনে সাধারণ ভোটারদের মনে নানা শঙ্কা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর এলাকার অনেক নারী-পুরুষ ভোটার বলেন, ‘জয়-পরাজয় হবে ব্যালটে। কিন্তু আমরা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারি। চুনারুঘটে প্রভাবমুক্ত নির্বাচন দেখতে চাই।’ 

বিএনপি প্রার্থী নাজিম উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকগণ পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবার রাতে বরাইল, পাকুড়িয়া ও চন্দনা গ্রামে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের পুলিশ ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। তাদের বাড়িঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করেছে। এমনকি রাতের বেলা বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের গালাগাল করেছে। এলাকা ছেড়ে যেতে ভয়ভীতি দেখিয়েছে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে চুনারুঘাট থানার ওসি আলী আশরাফ গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মেয়র প্রার্থী নাজিম উদ্দিন রিটার্নিং অফিসারের কাছে এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট পৌরসভা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এ বিষয়ে পুলিশ বাহিনীর যথার্থ ভূমিকা পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি চৌধুরী মো. ফরিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাসুদ আলী ফরহাদ। তাদের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ের সিনিয়র সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল ঐ দিন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। পুলিশ সুপার নিরাপত্তা বিধানের আশ্বাস দিয়েছেন।    

প্রসঙ্গত, চুনারুঘাট পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৪০২ জন। ৯টি ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র ১১টি। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভা তিন বছর আগে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা লাভ করে।