রাজধানীতে যুবকের পাঁচ টুকরা লাশ, নারী গ্রেফতার

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩৯

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর টিকাটুলির কে এম দাস লেনে একটি ভবনের চারতলা বাসা থেকে সজিব হাসান নামের এক যুবকের পাঁচ টুকরা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহনাজ পারভিন নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য জানতে পুলিশ শাহনাজের স্বামী জসিমকে হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত রক্তমাখা বঁটিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। দুপুরের পর এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত উত্সুক মানুষ ভিড় জমায় সেখানে। স্থানীয় লোকজন জানায়, সজিব হাসান কে এম দাস লেনের ঐ বাসায় বেশির ভাগ সময়ই একা থাকত। তার স্ত্রী-সন্তান ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ড উপজেলায় থাকে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওয়ারি থানার এসআই সোহাগ ও এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, শাহনাজ পারভিনের স্বামী জসিম তিন দিন আগে স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে থানায় একটি ডায়ারি করেন। গতকাল দুপুরে তিনি থানায় গিয়ে জানান, তার স্ত্রী শাহনাজ ফোনে জানিয়েছে, সে বিপদে আছে। একটি বাড়িতে সজিব তাকে আটকে রেখেছে। এ কথা শুনে পুলিশ তাকে নিয়ে কে এম দাস লেনের ঐ বাড়িতে যায়। চারতলার বাসার দরজা নক করার সঙ্গে সঙ্গে শাহনাজ পারভিন নিজেই দরজা খুলে দেন। শাহনাজ জানান, সজিবকে তিনি খুন করেছেন। পুলিশ বাসার ভেতরে ঢুকে সজিবের খণ্ডিত লাশ      দেখতে পায়। এসআই সোহাগ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শাহনাজ জানিয়েছেন তিনি একাই সজিবকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। তবে তার সঙ্গে আরো কেউ ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শাহনাজের কাছ থেকে নেওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, ৪৯/২ আর কে মিশন রোডে শাহনাজদের বাসা। প্রায় দুই বছর ধরে  কে এম দাস লেনের ১৭/১ নম্বরের ঐ বাসায় গিয়ে সজীবের সঙ্গে কারচুপি (ড্রেসে পুঁথি বসানো) বসানোর কাজ করতেন তিনি। শাহনাজের বড় মেয়ে কলেজে পড়েন আর দুই ছেলে চাকরি করেন। স্বামীও ব্যবসা করেন। একপর্যায়ে সজীবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সজীব ওই নারীর বাসায়ও আসা-যাওয়া করতেন। এ সুযোগে সজীবের সঙ্গে ঐ নারীর মেয়েরও একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগে সজীবকে বেশ কয়েক বার সতর্কও করেছিলেন ঐ নারী। এরপরও সজীব থেমে থাকেননি। বরং তার মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় বারবার বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। সম্প্রতি সজিব শাহনাজকে স্বামী-সন্তান ছেড়ে তার সঙ্গে ঘর করতে প্ররোচনা দিতে থাকেন। এ অবস্থায় গত সোমবার কাপড়-চোপড় নিয়ে ঐ নারী কাউকে না জানিয়ে সজীবের বাসায় ওঠেন। এর মধ্যে ঐ নারীর স্বামী স্ত্রীকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে থানায় জিডি করেন।

শাহনাজ পুলিশকে আরো জানায়, তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক সজীব তার মোবাইলে গোপনে ভিডিও করেছিল। ঐ ভিডিও জিম্মি করে সে তার (শাহনাজ) মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসতে বলে। বুধবার রাতে এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। পরে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। এরই এক সময় শাহনাজ রান্না ঘর থেকে বঁটি এনে ঘুমে থাকা সজিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্বামীকে ফোন দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তের আগে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। ঐ নারী যে সত্য বলছেন, তদন্তের আগে তা-ও বলা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্তে ভিন্ন কিছুও বের হতে পারে।’