পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৮

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মো. মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ। তিনি যথারীতি তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে তিনি আরো বলেন, পাপিয়া দম্পতির অর্জিত ৫ কোটি ৮৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ বলে প্রতীয়মান হওয়ায় দুদক আইনের ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ কারণে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দেয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের সময় র্যাব পাপিয়াসহ চার জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল মুদ্রা ও ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

এরপর ঐ দিন রাতেই পাপিয়ার নরসিংদীর বাসায় এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হোটেল ওয়েস্টিনে তাদের নামে বুকিং করা বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল সুটে অভিযান চালানো হয়। এছাড়া ফার্মগেট এলাকার ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডে রওশনস ডমিনো রিলিভো নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব।

এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি, মাদক আইনে একটি ও বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।

এরপর ঐ বছরের ১০ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আর ১২ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ অস্ত্র আইনে পাপিয়া দম্পতিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া গুলি উদ্ধারের ঘটনায় তাদের আরো সাত বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক।