তিব্বতে চীনের আগ্রাসনের সরাসরি বিরোধিতা করা উচিৎ ভারতের। চীন কখনোই তিব্বতের অংশ ছিল না। চীন যে তিব্বত দখল করেছে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তিব্বত একটি দখলকৃত ভূখণ্ড এবং চীনের এর ওপর কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।
এ বিষয়ে 'তিব্বত ব্রিফ ২০/২০' বইয়ে আন্তর্জাতিক আইন এবং সম্পর্ক বিষয়ের প্রফেসর ড. মাইকেল ভ্যান ওয়াল্ট বলেন, "ভারতকে বুঝতে হবে যে, শুধু তিব্বত নয় পুরো হিমালয় অঞ্চল ভারতীয় ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং এটি রক্ষা করার জন্য ভারতকে কাজ করতে হবে। ভারত সরকারের একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে তাদের চীন-তিব্বত সমস্যার সমাধান করতে হবে। ঐ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতকে বহির্বিশ্বকে জানাতে হবে, 'তিব্বত সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি'।"
ড মাইকেল ভ্যান ওয়াল্ট আরো বলেন, 'তিব্বতকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর চীনকে নিয়ে ভারত কোনও বক্তব্য দেয়নি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো তিব্বতকে দখলকৃত অঞ্চল বলে আখ্যায়িত করে। এটি ছিল একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ভারত এবং পুরো বিশ্বকে চীনের চাপের কাছে মাথা নত করা উচিৎ হবে না।'
তিনি আরো যোগ করেন যে, 'ভারতকে তিব্বত ইস্যুতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ব তিব্বত প্রশ্নে নীতি নির্ধারনের সময় ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকে। বিশ্ব চীনের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে আওয়াজ তুলছে। এখন বিশ্বকে চীনের বিরুদ্ধে এক হতে হবে।'
কেন্দ্রীয় তিব্বত প্রশাসন (সিটিএ) কখনো এই ঘোষণা দেয়নি যে তিব্বত চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিব্বতের নেতা দালাই লামা এবং কেন্দ্রীয় তিব্বত প্রশাসন (সিটিএ) অনেকবারই এই সমস্যা সমাধানে চীনের সরকারকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি মনে করি না যে তিব্বতের প্রশাসন স্বীকৃতি দেয় যে তারা চীনের অংশ। চীন তিব্বত, পূর্ব তুর্কিস্তান, হংকং, ইনার মঙ্গোলিয়াতে যে আচরণ করছে তা দেখে আমার মনে হয় না যে চীন এদের শক্তিশালী স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান দেখাবে।
তিব্বতের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত মানবাধিকার কর্মি তেনজিন টিসুন্দয়ে বলেন, 'চীন আমাদের শত্রু এবং তারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।'
তিব্বতের নির্বাসিত রাজনীতিবিদ গ্যারি ডলমা বলেন, 'আমরা ধীরে ধীরে একটি ফাঁদের মধ্যে পড়তে যাচ্ছি। আমি কখনো কেন্দ্রীয় তিব্বত প্রশাসনের (সিটিএ) পক্ষে কথা বলিনি। আমি দাবি তুলেছি তিব্বতিয়ান হিসেবে। ভারত এবং তিব্বত উভয় দেশকে সেলফ সেন্সরশিপ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চীন তিব্বতকে নিয়ে যে ঐতিহাসিক গল্প বানিয়েছে সেটি যে ভুল এবং মিথ্যা তা জানাতে হবে তাদের।'
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'আরএন্ডডব্লিউ'-এর প্রধান সিডি সহায় বলেন, 'তিব্বত নিয়ে মানুষকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চীন সরকার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভাবতে হবে যে কিভাবে এই বিতর্ককে চাঙ্গা রাখা যায়। আর এ বিষয়ে সকলকে লিখতে ও বলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুনায়াত বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, চীন কখনই ভারতের 'ওয়ান ইন্ডিয়া পলিসি' শ্রদ্ধা করেনি। চীন নিজের শক্তির সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে। সংলাপ আমাদের খুব বেশি দূরে নিয়ে যাচ্ছে না।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী কর্মী বিলাল বেলোচ বলেন, 'চীন এবং পাকিস্তান একই নীতিতে বিশ্বাস করে। শুধু তিব্বত নয়, বেলোচিস্তান নিয়েও ভারতের নীতি পরিবর্তন করতে হবে।'
এদিকে প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে যাওয়ার আগে তিব্বত ইস্যুতে একটি আইন পাশ করে গেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিব্বত সংক্রান্ত একটি বিলে সই করেন এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেখানে বলা হয়েছে, পরবর্তী দালাই লামা নির্বাচন করতে চীন বা অন্য কোনও দেশের অনুমোদন ছাড়াই নিজেদের পছন্দ মত ধর্মগুরু বেছে নিতে পারবেন তিব্বতীরা।
