কেশবপুরে করোনা সহায়তা তালিকায় অমত্স্যচাষি অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৩০

আশরাফ-উজ-জামান খান, কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

কেশবপুরে মত্স্য নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রকৃত মত্স্যচাষিদের বঞ্চিত রেখে সাসটেইনেবল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পে (করোনা সহায়তা তালিকা) অধিকাংশ অমত্স্য চাষির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মত্স্যচাষিরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা থেকে ভুয়া নাম বাদ দিয়ে নতুন তালিকা প্রণোয়নের দাবি জানিয়েছেন। জানা গেছে, কোভিড-১৯ এ কর্ম না থাকায় প্রকৃত মত্স্য চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ সময় সরকার প্রকৃত মত্স্য চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে মত্স্য অধিদপ্তরের আওতায় সাসটেইনেবল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের তালিকায় যেসব মত্স্য চাষির ২ একরের কম ও ২ একর থেকে ৩ একর পর্যন্ত মাছের ঘের রয়েছে তারাই অন্তর্ভুক্ত হবেন। এসব মাছ চাষিদের চিংড়ির খাদ্য ও চিংড়ি পোনা ক্রয় সহায়তা বাবদ এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিপূর্বে জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ও কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে আটটি চিংড়ি চাষি সুফলভোগী দল বা ক্লাস্টার চাষি গঠন করা হয়। এগুলো হলো, সানতলা, কালিচরণপুর, আড়ুয়া, কাঁকবাধাল, বাগডাঙ্গা, গৃধরনগর, কানাইডাঙ্গা ও ডহুরী চিংড়ি চাষি সুফল দল। প্রকৃত পক্ষে এরাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাসটেইনেবল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পে (করোনা সহায়তা) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। উপজেলা সিনিয়র মত্স্য অফিস এ আটটি দলের মধ্যে শুধুমাত্র কালিচরণপুর চিংড়ি চাষি সুফল দলকে সাসটেইনেবল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছে। অদৃশ্য কারণে বাকিদের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ উপজেলার ৭৮০ জন উপকারভোগীদের ১০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করে কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মত্স্য অফিস।

সরেজমিনে জানা গেছে, মধ্যকুল গ্রামের ইমরান হেসেন, শরিফুল ইসলাম, জুয়েল হোসেন, মাদারডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হালিম, রাজনগর বাকাবর্শি গ্রামের মজিদ খা, মোকবুল হোসেন, হারুন আর রশিদ, আবু হানিফ শাহীনের চিংড়ি চাষতো দূরের কথা মাছের ঘেরও নেই। যে তালিকা করা হয়েছে তার অধিকাংশ ভুয়া। তালিকায় রয়েছে এক থেকে পাঁচশত বিঘা জমি নিয়ে ঘের করা ব্যক্তিদেরও নাম। উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা সজিব সাহা বলেন, ‘এ তালিকা তৈরিতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটির সদস্য সচিব আমি নিজেই। এই কমিটি যাচাই বাছাই করেই তালিকা করেছে। তাছাড়া ক্লাস্টার চাষি (সুফলভোগী) পাবে এমন কোনো নীতিমালা নেই। বড় চাষি ঢুকেছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, ‘উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা তালিকা প্রণয়ন করে আমার দপ্তরে প্রেরণ করলে যাচাই বাচাই করে প্রায় ২০ শতাংশ অমত্স্য চাষির নাম বাদ দিয়ে তালিকা করা হয়। এরপরও যদি অমত্স্য চাষির নাম তালিকায় থেকে যায় তবে অভিযোগ পেলেই সেসব নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত মত্স্য চাষিদের অন্তর্ভুক্ত করার এখনো সুযোগ রয়েছে।’