রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে সজীব হাসান নামে যুবকের পাঁচ টুকরা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার শাহনাজ পারভীন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে সজীব হাসানকে হত্যার ঘটনায় তার খালু নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে শাহনাজ পারভীনকে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান।
পুলিশের ভাষ্যমতে, জবানবন্দিতে শাহনাজ জানান, ৪৯/২, আর কে মিশন রোডে শাহনাজের বাসা। প্রায় দুই বছর ধরে কে এম দাস লেনের ১৭/১, নম্বর বাড়ির চার তলার বাসায় গিয়ে সজীবের সঙ্গে কারচুপি (ড্রেসে পুঁতি বসানো) বসানোর কাজ করতেন তিনি। ১১ বছর আগে সজীবের সঙ্গে তার পরিচয়। কুষ্টিয়া থেকে বাসে আসার সময় সজীব তার কাছে নিজেকে সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছিল। সজীব চট্টগ্রামে কর্মরত বলে জানিয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তিনি জানতে পারেন যে সজীব বেকার যুবক। সে বিবাহিত। কুষ্টিয়ায় তার স্ত্রী ও সন্তানরা থাকে। এরই মধ্যে সজীব কে এম দাস লেনের বাসায় ভাড়ায় ওঠে। বাসাভাড়া শাহনাজ পরিশোধ করতেন। শাহনাজের ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। বড় মেয়ে সিটি কলেজে পড়ে। আর দুই ছেলে চাকরি করে। স্বামী ব্যবসা করেন। গত বছর সজীবের গাজীপুরে বসবাসরত তার ফুফুর বাড়ি থেকে ২০ লাখ টাকা আনার কথা ছিল। ঐ টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করবেন। কিন্তু সজীব ঐ টাকা আনতে ব্যর্থ হয়। কিছু দিন ধরে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সজীবের বাসায় সময় কাটাতেন তিনি। কাজের সুবাদে সজীবও তার বাসায় যাতায়াত করতেন। এর মধ্যে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে সজীবের প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিষয়টি তিনি জানতে পেরে সজীবকে বেশ কয়েক বার সতর্কও করেন। একপর্যায়ে সজীব মোবাইল ফোন থেকে তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করার ভিডিও দেখায় তাকে। এটা দেখে তিনি লজ্জায় পড়েন। এর পরই সজীবকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কীভাবে করবেন তা তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাহনাজ দাবি করেন, সজীব তাকে খুনের পরিকল্পনা আগেই করেছিল। সোমবার সকালে ব্যাগে কাপড় ভরে তিনি সজীবের বাসায় যাওয়ার পর সেটা সে বুঝতে পারে। বাসায় সজীব ছুরি ও হাতুড়ি কিনে রেখেছিল। বুধবার রাতে একসঙ্গে ঘুমানোর আগে সজীবকে তার মোবাইল ফোন থেকে মেয়ের ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করে দিতে বলেন। তখন সজীব তাকে জানায় যে, যদি তার মেয়েকে ঐ বাসায় আনতে পারে, তবেই ভিডিও ডিলিট করা হবে। তখন সজীব তার মোবাইল ফোন থেকে তার (শাহনাজ) সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করার একটি ভিডিও ফুটেজ দেখায়। সেটা দেখিয়ে সজীব তার স্বামীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা এনে দিতে বলে। এসব বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে একপর্যায়ে সজীব প্রথমে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে শাহনাজের হাত কেটে যায়। তখন সজীবকে সজোরে ধাক্কা দিলে হাতের ছুরি তার (সজীব) পেটে ঢুকে যায়। এতে সজীব দুর্বল হয়ে পড়লে তখন সে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে রান্নাঘর থেকে বঁটি এনে লাশ পাঁচ টুকরা করে।
