নীরবে রাজশাহী ছাড়লেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৯

পশ্চিম রেলের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তা জামশেদ মিনহাজ রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার, দুর্নীতি-অনিয়ম, অসদাচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল জামশেদের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করছেন। তদন্ত দলটি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পৌঁছেন। তারা বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিন রেলওয়ের হিসাব শাখায় সরেজমিন তদন্ত কাজ করেন। তদন্ত দলের প্রধান আনিসুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।

এদিকে জামশেদকে পশ্চিম রেলের সদর দপ্তর রাজশাহী থেকে ঢাকায় হিসাব অধিদপ্তরের আইটি অডিট বিভাগে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নীরবেই তিনি রাজশাহীর রেলওয়ের নিজ দপ্তর ছেড়ে চলে যান। রেলওয়ে সূত্র জানায়, মহা-হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) দপ্তরের অধীন চাকরি হলেও জামশেদ পশ্চিম রেলওয়ের হিসাব বিভাগের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা পদে প্রেষণে ছিলেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। গত ২২ জানুয়ারি তার নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও তার অসদাচরণ এবং বিশৃঙ্খল জীবনাচার নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে থেকে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাজশাহী ছাড়ার সময় রেলওয়ের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছে তিনি ক্ষমা চেয়ে নেন। সূত্র জানায়, জামশেদ দিনে অফিস করতেন না। সন্ধ্যায় অফিসে ঢুকে গভীর রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত দপ্তরে অবস্থান করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ে ঠিকাদারসহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে বিল ছাড়করণ নিয়ে দরকষাকষি করতেন।

জানা যায়, জামশেদ ১৮তম অর্থ ক্যাডারের কর্মকর্তা। ১২ বছর আগে কাউকে কিছু না জানিয়ে পরিবার নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমান। সরকারকে কিছু না জানিয়ে সেখানে ১২ বছর অবস্থানের কারণে তার চাকরি চলে যায়। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘ সময় কানাডায় অবস্থানের তথ্য গোপন করে চাকরি ফেরত পান। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তার পদে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহীতে পদায়ন হওয়ার পর কোটি কোটি টাকার বিল একক সিদ্ধান্তে ছাড় করেছেন। তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে।