করোনার বিস্তার রোধে আবার সীমান্ত বন্ধ করছে জার্মানি

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৪৪

অস্ট্রিয়া ও চেক সীমান্তে করোনা ভাইরাসের আরো ছোঁয়াচে সংস্করণ ছড়িয়ে পড়ায় কাল রবিবার থেকে আবার সীমান্ত বন্ধ করছে জার্মানি। এছাড়া দেশটিতে লকডাউনের মেয়াদও বেড়েছে। কারণ ইউরোপে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে আবার সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। খবর ডয়চেভেলের

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এক ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আরো কিছুদিন ধৈর্য্য ধরার আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার লকডাউনের মেয়াদ ৭ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া বাড়তি একদিনও লকডাউন কার্যকর করা হবে না। সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ প্রতিরোধ করতে আপাতত এছাড়া কোনো উপায় নেই। বিপদ কাটার আগে লকডাউন তুলে নিলে কিছুদিন পর আবার নতুন করে একই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মার্কেল সতর্ক করে দেন। তিনি আরো বলেন, অন্য কিছু দেশের তুলনায় জার্মানিতে টিকাদান কর্মসূচির ধীর গতির কারণে মানুষের মনে যে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি যথেষ্ট সচেতন। তবে এক্ষেত্রেও ধৈর্য্যের আবেদন করেন তিনি।

জার্মানি চেক প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত এলাকা ও অস্ট্রিয়ার টিরোল প্রদেশ থেকে মানুষের যাতায়াত আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। চেক প্রজাতন্ত্রে করোনা ভাইরাসের ছোঁয়াচে ব্রিটিশ সংস্করণ ও টিরোল প্রদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্করণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। টিরোল থেকে অস্ট্রিয়ার বাকি অংশে যাতায়াতের উপরেও কড়া নিয়ন্ত্রণ চাপানো হয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রও তিনটি জেলার ক্ষেত্রে একই রকম নিয়ন্ত্রণ চালু করছে।

স্যাক্সনি ও বাভেরিয়া রাজ্য জার্মানির ফেডারেল সরকারের উদ্দেশ্যে এই দুই অঞ্চলকে ‘ভাইরাস মিউটেশন এরিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে কড়া নিয়ন্ত্রণের ডাক দিয়েছিল। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই দুই সীমান্তে চেকপয়েন্টসহ অন্যান্য কিছু ব্যবস্থা করছে। তবে মানুষ চলাচল বন্ধ রাখলেও বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্বার্থে পণ্যবাহী ট্রাক বা ট্রেনের যাতায়াত বন্ধ করা হবে না। উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসের শেষ থেকেই জার্মানি কিছু দেশ ে‘ভাইরাস মিউটেশন এরিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখান থেকে মানুষের আগমন কার্যত বন্ধ রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপে করোনা সংকটের মোকাবিলার প্রচেষ্টা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে কড়া লকডাউন কার্যকর করে জার্মানির মতো দেশ দৈনিক সংক্রমণের হার অনেকটা কমাতে পারলেও সেই সাফল্য কতকাল ধরে রাখা সম্ভব সেই বিষয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বৃহস্পতিবার ইউরোপে লকডাউন শিথিল করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।