প্রাণ ফিরছে দাউদকান্দির কালাডুমুর নদে!

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:০৯

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কালাডুমুর নদের ২৩ কিলোমিটারের মধ্যে গৌরীপুর থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশে সম্প্রতি পুনঃখনন শুরু হয়েছে। খনন কার্যক্রম শেষ হলে নদসংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় ৫০ হাজার বিঘা কৃষি জমিতে উত্পন্ন হবে অন্তত সাড়ে ১২ লাখ মণ ধান। খননের আওতায় আসায় এ নদে ফিরছে প্রাণ এবং কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আশার আলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জমিতে মৌসুমি শাকসবজি ও বোরো ধান উৎপাদনে স্থানীয় কৃষকদের সেচের পানির একমাত্র উত্স এ নদ। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে খনন না করায় এ নদে বালু ও পলি জমে নদের অধিকাংশ স্থান বলতে গেলে শুকিয়ে যায়। 

গত ১১ ডিসেম্বর গৌরীপুর বাজারসংলগ্ন লক্ষ্মীপুর ব্রিজ পয়েন্টে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার মাধ্যমে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী। 

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, কালাডুমুর নদ গোমতী নদীর একটি শাখা। এ নদ জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর থেকে উত্পত্তি হয়ে গৌরীপুর, জিংলাতলি, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এলাকা অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী চান্দিনা, মুরাদনগর, দেবিদ্বার ও চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এস এম মিজান জানান, ‘স্থানীয় পরিবেশ সংগঠক ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত প্রভাষক মতিন সৈকতের নেতৃত্বে গত প্রায় দুই যুগ ধরে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, কোদাল মিছিল, প্রতীকী অনশন, নদী মেলা ও নদী অলিম্পিয়াড করে এ নদ পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিল এলাকার নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। সম্প্রতি সরকারিভাবে পুনঃখননের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এ নদ।’ পরিবেশ সংগঠক মতিন সৈকত জানান, ‘কালাডুমুর নদ পুনঃখনন ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা লক্ষ্য।

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান জানান, ‘সেচ ও পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম এ নদের আংশিক পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। তবে নদের বিভিন্ন স্থানের সংযোগ খালগুলো কালের বিবর্তনে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে, এসব খাল পুনঃখনন করা গেলে এ নদসংশ্লিষ্ট এলাকার এক ফসলি জমিতে বছরে তিনটি ফসল উত্পাদন করা যাবে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানিও রিজার্ভে থাকবে।’ দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন জানান, ‘কালাডুমুর নদটি পুনঃখননের জন্য স্থানীয় এমপি মহোদয় জাতীয় সংসদে অনেক বার আবেদন করে গৌরীপুর থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পুনঃখননের ব্যবস্থা করেছেন। পুনঃখনন শেষ হলে পরিবেশ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষিতে বৈপ্লবিক উন্নয়নের পাশাপাশি এ নদ জনকল্যাণে বহুমুখী উপকারে আসবে।’


ইত্তেফাক/এমএএম