জেল-জরিমানায়ও থামছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৪২

বরিশালের বিভিন্ন নদী, খাল-বিল ও ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বরিশাল জেলার ১০ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী এবং পার্শ্ববর্তী চরগুলো থেকে দেদার দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করলেও প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনোভাবেই পেরে উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, কেবল জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব পর্যায়ের দায়িত্বরতরা এবং স্থানীয়ভাবে সচেতন মহল রুখে না দাঁড়ালে এ সিন্ডিকেট মোকাবিলা করা যাবে না। কেননা অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন দেন-দরবারের মাধ্যমে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালের বিভিন্ন ইটভাটা মালিকরা দেশের দূর-দূরান্ত থেকে লোক ভাড়া করে চরের মাটি কেটে আনছে। বিভিন্ন জেলার এসব লোকজন বাড়তি টাকার আশায় প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে ঝুঁকি নিয়ে মাটিকেটে সাবাড় করছে। বিভিন্ন অভিযানকালে তাদের বাধা প্রদান করলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আভিযানিক দলের ওপর হামলাও চালায়। এতে বিভিন্ন সময় অভিযান না করেই ঘটনাস্থল থেকে আভিযানিক দলকে অনেক সময় ফিরে আসতে হয়।

এছাড়া বালু উত্তোলনকারীরা বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে রাজনৈতিক মহল বিশেষের সঙ্গে চুক্তি করে বালু উত্তোলন করে আসছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালের কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, কালাবদর, গজারিয়া, সন্ধ্যা, জয়ন্তীসহ মেঘনার বিভিন্ন শাখা নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন ও নদীর তীরবর্তী ফসলি জমির মাটি কাটায় তীব্র ভাঙনের মুখে পড়তে হচ্ছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের।

এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর নির্বাহী অফিসার, এসি ল্যান্ড, জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমানা, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ ড্রেজার, ট্রলার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আটক করলেও থামানো যাচ্ছে না তাদের। কেননা যারা আটক হচ্ছে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে কিংবা তাদের পরিবর্তে অপর লোকজন ভাড়া করে প্রভাবশালী মহল পূর্বের মতো কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বালু উত্তোলনের জন্য জায়গা নির্ধারিত রয়েছে। সে অনুযায়ী বালুমহল ইজারা দেওয়ার জন্য নির্দেশনাও রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যেই অভিযান পরিচালিত করছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কিংবা মাটি কাটা হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে কীর্তনখোলা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া বৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনাও সরকারিভাবে রয়েছে। কিন্তু অবৈধভাবে এভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার ফলে নদী ভাঙন যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি নদীর গতিপথও পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। প্রশাসন আরও কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা না করলে এসব অসাধু লোকজনকে এ কার্যক্রম থেকে ফেরানো যাবে না।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাজীব আহমেদ জানান, জেলার তালিকাভুক্ত ২৬টি বালুমহালের মধ্যে মাত্র আটটি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো আইনি জটিলতার কারণে ইজারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ইত্তেফাক/এমএএম