ট্রাম্পের ব্যবসা ঝুঁকিতে, কমছে নগদ আয়ও

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:১০

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অভিশংসন বিচারের মুখোমুখি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই তার সবচেয়ে লাভজনক রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অরগানাইজেশনের বড় নগদ অর্থ আসে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার অংশীদারিত্ব থেকে। কিন্তু অনেক ঋণ থাকায় এবং মুনাফা কমে যাওয়ায় ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট এবং অতিথি সেবার ব্যবসা এখন ধুঁকছে। করোনা মহামারি এর অন্যতম বড় কারণ।

নিউ ইয়র্ক সিটি ও সান ফ্রান্সিসকোতে দুটি ফার্স্ট-ক্লাস বাণিজ্যিক ভবনের মালিকানায় অংশীদারিত্ব রয়েছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের। ট্রাম্পের যত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তার মধ্যে এই দুটি সম্পত্তি থেকে বেশি মুনাফা হয়। এই ভবনগুলোর মালিকানায় ট্রাম্প অরগানাইজেশনের ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ভরনাদো রিয়েলটি ট্রাস্টের। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান স্টিভেন রোথ এখন ট্রাম্পকে নগদ অর্থ দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাহার করা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। এটা হলে ট্রাম্প অরগানাইজেশনের নগদ অর্থ প্রাপ্তির পরিমাণ কমে যাবে। ট্রাম্প তার শেয়ারের অংশ ডিসকাউন্টে ভরনাদোর কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে পারেন। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের নগদ অর্থ পাওয়ার বড় উত্স হাতছাড়া হতে পারে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে ভরনাদো রিয়েলটির সঙ্গে তাদের আলোচনার বিষয়ে জানাতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, ভবন দুটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক সম্পত্তি। যা নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। ভরনাদোর মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম জানায় যে, ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার পর স্টিভেন রোথ ট্রাম্পের সঙ্গে অংশীদারিত্ব থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তাভাবনা শুরু করেন। সম্প্রতি ফোর্বস ম্যাগাজিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঐ দুটি ভবনে ট্রাম্পের যে শেয়ার রয়েছে তার আর্থিক মূল্য ৭৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার (৬ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা)। এই শেয়ারের বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ২৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (দুই হাজার ৪২২ কোটি টাকা)।

যদিও খবরে বলা হয়েছে, ক্যাপিটলে হামলার আগে থেকেই ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ কমতে শুরু করে। তিনি যখন প্রেসিডেন্ট হন তখন তার সম্পদ ছিল ৩৫০ কোটি ডলারের (২৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা)। এখন তা ২৫০ কোটি ডলারে (২১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা) দাঁড়িয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএ