মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সতর্ক করেছেন, আমরা যদি অবকাঠামো খাতে ব্যয় না বাড়াই তাহলে চীন আমাদের খাবার খেয়ে ফেলবে। বৃহস্পতিবার একদল সিনেটরের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি অবকাঠামো খাতে উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিকে মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণে ট্রাম্পের অর্থ বরাদ্দ বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির
বাইডেন এমন সময় সিনেটরদের অবকাঠামো খাত নিয়ে সতর্ক করলেন যার এক দিন আগে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ফোনালাপ করেন। পরিবেশ এবং গণপূর্ত বিভাগের সদস্যদের প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, আমরা যদি সামনের দিকে অগ্রসর না হই তাহলে চীন আমাদের খাবার খেয়ে নেবে। কারণ দেশটি পরিবহন, পরিবেশ এবং অন্যান্য খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। বাইডেন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চার বছরের জন্য স্বচ্ছ জ্বালানি অবকাঠামো খাতে দুই ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব করেছেন।
২০১৭ সালে আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের (এএসসিই) একটি বহু উল্লিখিত রিপোর্ট কার্ডে অবকাঠামোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডি প্লাস’ গ্রেড দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো অবকাঠামোগত ঘাটতি ২০২৫ সালের মধ্যে পূরণ করতে দুই ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে এএসসিইর হিসাবে বলা হয়েছিল। এটি করা না হলে সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে এর দ্বিগুণ মূল্য মেটাতে হবে বলে ঐ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৯ সালের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার প্রতিবেদনে বিস্তৃত পরিসরে অবকাঠামোগত মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৩তম বলে জানানো হয়েছিল। অবকাঠামোগত মনাদণ্ডে ২০০২ সালে দেশটি পঞ্চম অবস্থানে ছিল।
সীমান্ত দেওয়াল নির্মাণে অর্থায়ন প্রত্যাহার
মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে দেওয়া এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন লেখেন—আগের নির্দেশনার কোনো দরকার ছিল না এবং জনগণের করের অর্থ এই দেওয়াল নির্মাণে ব্যয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প ২০১৯ সালে জরুরি অবস্থা জারি করে দেওয়াল নির্মাণে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সামরিক তহবিল থেকে কাটছাঁট করে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প যখন অফিস ত্যাগ করেন তখন প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার এই খাতে ব্যয় হয়েছিল বলে জানা যায়। এদিকে বাইডেন আবারও বলেছেন, ট্রাম্প করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
ইত্তেফাক/এনএ
