দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ দেড় বছরেও শূন্য

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৫:১১

দুই লেনের মাত্র ৬.২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রকল্প। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-খানপুর-হাজীগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ক নির্মাণের এই প্রকল্পটি ২০১৯ সালে হাতে নেয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ। এই সড়কটি নির্মাণে একনেক সভায় ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের সময় দেওয়া হয়েছিল দুই বছর। ইতিমধ্যেই মেয়াদের প্রায় দেড় বছর সময় পার হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো ‘শূন্য’।

বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, করোনা ও অবৈধ দখলদারদের বাধার কারণে প্রকল্পটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের আগ্রহে শহরের চাঁনমারি থেকে পুরাতন রেল লাইনের পাশ দিয়ে খানপুর, হাজীগঞ্জ, গোদনাইল হয়ে আদমজী ইপিজেড পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ। সে মতে মূল সড়ক ৭.৩০ মিটার প্রশস্ত এবং উভয় পাশে ১.৮০ মিটার প্রশস্ত হার্ডসোল্ডার থাকার কথা। এ ছাড়াও চারটি আরসিসি সেতু ও একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এর জন্য সড়ক ও জনপথ প্রয়োজনীয় ভূমি ১ লাখ টাকা প্রতীকী মূল্যে রেলওয়ে থেকে বরাদ্দ নেয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর। এ কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত মেয়াদ থেকে প্রায় চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে রেলওয়ে থেকে বরাদ্দ নেওয়া জমি বুঝে পেতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়। সড়কটি নির্মাণের অ্যালাইনমেন্টে রেলওয়ের লিজ দেওয়া ও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানা ও স্থাপনা থাকায় সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ও ১ মার্চ সড়ক ও জনপথ রেলওয়েকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানায় সড়ক নির্মাণের অ্যালাইনমেন্ট-এ বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা এবং রেলওয়ে কর্তৃক লিজকৃত কারখানাসমূহ উচ্ছেদ করে পজিশন হস্তান্তরের জন্য। রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ যৌথভাবে উচ্ছেদ পরিচালনা করে সড়ক নির্মাণের ভূমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর সময় নির্ধারণ করে। সে লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতিও নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক জন প্রভাবশালী উচ্ছেদ বন্ধে সক্রিয় ছিলেন। কিছু সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সভা সমাবেশ করিয়েছেন। উচ্ছেদ পরিচালনার নির্ধারিত দিনের দুই দিন আগে গত ৫ ডিসেম্বর নগরীর চার জন কাউন্সিলর শিমরাইলে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের অফিসে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উচ্ছেদ বন্ধের অনুরোধ জানান। বৈঠকের পর নির্ধারিত উচ্ছেদ কার্যক্রম আর হয়নি। এ দিকে আগামী ৩০ জুন প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হবে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, আশা করি শিগগিরই ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নির্ধারিত উচ্ছেদ কার্যক্রম অনিবার্য কারণবশত রেলওয়ে স্থগিত করেছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো ছাড়াই বাস্তবায়নের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সেটিও এখন প্রক্রিয়াধীন আছে।’

ইত্তেফাক/এমএএম