ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পত্রিকার শিরোনামে জেরিন একটি দেশের দাঙ্গার খবর পড়ছে। পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠা জুড়ে ছিল হত্যা, ভাংচুর, লুটপাট আর বিশৃঙ্খলার বীভত্স চিত্র । এসব দেখে জেরিনের মনে হলো এরা আমাদের কী সভ্যতা শিখিয়েছে? এরা তো জোর করে আমাদের শাসন করেছিল । তারা আমাদের ভারতবর্ষ থেকে পুঁজি পাচার আর শোষণ নিপীড়নে মেতে উঠেছিল। তারা মুরুব্বি সেজে আমাদের সভ্যতা শেখাতে চেয়েছিল । জেরিনের বারবার মনে হয়, তারা সম্পদের যে প্রাচুর্য গড়ে তুলেছে তা আমাদের দেশ থেকে নেওয়া ।
ক. ‘দি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া’ কোম্পানি কত সালে স্থাপিত হয় ?
খ. মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার কারণ কী?
গ. উদ্দীপকে জেরিন কাদের শাসনের কথা বলতে চেয়েছে ? তাদের শাসনব্যবস্থা ব্যাখ্যা করো ।
ঘ. উদ্দীপকে জেরিনের দৃষ্টিতে যে শাসন ব্যবস্থার কথা ফুটে উঠেছে ইতিহাসে তাদের পরিণতি কী হয়েছে ? তা বিশেষণ করো
উত্তর:
ক. ‘দি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া’কোম্পানি স্থাপিত হয় ১৬০০ সালে ।
খ. মুসলমানরা শিক্ষা , চাকরিসহ বিভিন্ন মৌলিক দাবি দাওয়া আদায়ে দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল । ফলে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয় । এরই ধারাবাহিকতায় মুসলমানদের রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া ও অধিকার ইংরেজ শাসকদের কাছে তুলে ধরার জন্য ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ. উদ্দীপকে জেরিন ব্রিটিশ বেনিয়াদের শাসনের কথা বলতে চেয়েছে । তার বক্তব্যে এ ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশদের শাসন- শোষণ, জুলুম-নির্যাতন আর সম্পদ লুণ্ঠনের ইতিহাস ব্যক্ত হয়েছে । ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পলাশীর যুদ্ধে পরাজয় ও মর্মান্তিক মৃত্যু এবং ইংরেজদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এদেশে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা দুশ বছর ধরে এ দেশের মানুষকে পরাজিত করে রেখেছিলো । তারা সভ্যজাতি হিসেবে নিজেদেরকে ভাবতো । তাই তারা আমাদের সভ্যতা শিখিয়েছে । অথচ সভ্যতার নামে চরম অসভ্য আচরণ করেছে তারা এ দেশবাসীর ওপর । এ দেশের কামার- কুমার, কৃষক , জেলে , তাঁতি আর খেটে খাওয়া মানুষদের রক্ত পানি করা সম্পদ তারা মুনাফা হিসেবে গ্রহণ করেছিল । ইংরেজরা এ দেশে প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে তা আদায়ে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে । অথচ এ দেশ থেকে সম্পদ পাচার করে নিজ দেশে সম্পদের প্রাচুর্য তৈরি করেছিল। ইংরেজ শাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল এ দেশের সম্পদ পাচার ।
ঘ. উদ্দীপকে জেরিনের দৃষ্টিতে ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থার কথা ফুটে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত এ দেশে ব্রিটিশদের পরিণতি ভালো হয়নি । এ দেশের স্বাধীনচেতা মানুষ তাদের অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছে। তাদের অন্যায়ের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছে। ফলে তারা এ দেশ থেকে পরাজিত হয়ে বিতাড়িত হয়েছিল। দুশ বছরের ব্রিটিশ শাসন-শোষণ আর নির্যাতনের শিকার হয়ে এ দেশের মানুষ সচেতন হয়ে উঠেছিল । হিন্দু- মুসলমান দল মত নির্ির্বশেষে বোঝতে পেরেছিল ব্রিটিশরা আমাদের শত্রু। তাদের হাতে আমাদের জীবন ও দেশের সম্পদ নিরাপদ নয়। ফলে সিপাহী বিদ্রোহ, অসহযোগ আন্দোলন , নীল বিদ্রোহসহ তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। চালানো হয় তাদের বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যা , সশস্ত্র যুদ্ধবিগ্রহ। রাজনৈতিক দল গঠন ও আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ রাজনৈতিক সচেতন হয়ে ওঠে । আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ বুঝিয়ে দেয় তারা স্বাধীনতা চায় । ফলে বাধ্য হয়ে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সরকার এ দেশ ছাড়ে । দুশ বছরের ইংরেজদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা লাভ করে ।
