গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানভর্তি সুতা লুট করতে চালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নগরীর কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি, হত্যার পর লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যান এবং ১২২ বস্তা সুতা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার দেওয়ান টুলি এলাকার মো. মনোয়ার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ এলাকার মানিক চন্দ্র সরকারের ছেলে গকুল চন্দ্র সরকার ওরফে বকুল সরকার। গতকাল গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাকির হাসান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে সদর মেট্রো থানা পুলিশ ন্যাশনাল পার্কের ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্ত্রী সাহেদা বেগম খবর পেয়ে লাশটি তার স্বামী কাভার্ড ভ্যানচালক মুন্নাফ সরকারের বলে শনাক্ত করেন। মুন্নাফ সরকার বুধবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ যাবে বলে নগরীর কাশিমপুর জিরানীর বাসা থেকে বের হন। বর্তমানে তারা গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার হরিপুর গ্রামে।
এ ঘটনায় সাহেদা বেগম সদর মেট্রো থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানতে পারে মুন্নাফ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকার নান্নু স্পিনিং মিল থেকে কাভার্ড ভ্যানযোগে ১২২ বস্তা সুতা নিয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা-চৌরাস্তার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে আসামিরা ভোগড়া বাইপাস এলাকা থেকে ঐ কাভার্ড ভ্যানে ওঠে। এক পর্যায়ে চালক মুন্নাফকে কাভার্ড ভ্যানের ভেতরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা গেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা লাশটি ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ৫ নম্বর গেইট এলাকায় ফেলে রেখে সুতাভর্তি কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধামরাই এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে কাভার্ড ভ্যানটি উদ্ধার করে। শুক্রবার কাশিমপুর থানাধীন জিরানী এলাকা থেকে গকুল চন্দ্র সরকার ওরফে বকুলকে গ্রেফতার এবং তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত সুতা উদ্ধার করা হয়। গকুলের দেওয়া তথ্য মতে রাতে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নাজমুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। গতকাল ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আসামিদের গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়।
