মির্জাপুরে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভেক্যু মেশিনে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে যথেচ্ছ পরিবহনের ফলে এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।
আজগানা এলাকার আবজাল হোসেন (৫৬), নয়াপাড়া গ্রামের বছির উদ্দিন (৬৫) ও তরফপুর এলাকার ইব্রাহিম মিয়া (৫০) অভিযোগ করে বলেন, পাহাড়ি এলাকার আজাগানা, গোড়াই, বাঁশতৈল, তরফপুর ও লতিফপুর ইউনিয়নে ৭০-৮০ জনের একটি অসাধু চক্র পাহাড় কেটে লাল মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, সৈয়দপুর, রাজাবাড়ি, লতিফপুর, টাকিয়া কদমা, সিট মামুদপুর, মামুদপুর, বান্দাচালা, কোদালিয়া, আজগানা, কোড়াতলী, শেখেরচালা, হাঁটুভাঙ্গা, বাঁশতৈল, বংশীনগর, দরানীপাড়া, নয়াপাড়া, পেকুয়া, গায়রাবেতিল, বালিয়াজান, মোতারচালাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি টিলা ও উঁচু এলাকার লাল মাটি বিক্রি করে চলেছে। বাসাবাড়ির নিচু জায়গা ভরাটে এবং ইটভাটায় এ মাটি বিক্রি করছে চক্রটি। এতে বনাঞ্চল যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
বনাঞ্চলের ও পাহাড়ি টিলার মাটি কাটা বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি ডৌহাতলী (পাথরঘাটা) গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর প্রশাসন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কয়েকটি মাটি কাটার ভেক্যু জব্দসহ কয়েক জনকে জরিমানা করে। কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবার নতুন করে শুরু হয়েছে মাটি কাটা। পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহকারী পরিচালক মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, বনাঞ্চল ও এর আশপাশে এবং কোনো আবাসিক এলাকায় মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার টাঙ্গাইল জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র বলেন, যারা বনাঞ্চল ধ্বংস করে লাল মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িতদের প্রায়ই আটকসহ জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া জব্দ করা হচ্ছে মাটি কাটার ভেক্যু মেশিন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টের অভিযান চলমান থাকবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
