শ্যানন গ্যাব্রিয়েল শর্ট বল করছেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ডাক করছেন। আবার জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট উঁচিয়ে বল পাঠাচ্ছেন থার্ড ম্যানে, বল লিভ করছেন। তেজোদীপ্ত গ্যাব্রিয়েল ফলো থ্রুতে এসে কয়েক কথা শোনাচ্ছেন মিরাজকে। ডাক করতে গিয়ে বসে থেকে হাসি মুখে সেসবের টুকটাক জবাবও দিচ্ছেন এ বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান।
গতকাল দিনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশনে মিরাজের সঙ্গে দ্বৈরথটা জিতেছেন কার্যত ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলারই। তার ফুলার লেন্থ বলে কভারে ক্যাচ দিয়েছেন মিরাজ। ততক্ষণে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি করেছেন এ তরুণ। চট্টগ্রামে সেঞ্চুরির পর গতকাল ৫৭ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত করেছেন লিটন দাসের সঙ্গে জুটি বেঁধে। তাদের ১২৬ রানের জুটিতেই ম্যাচে ফিরে স্বাগতিকরা।
উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে এই সিরিজে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে বোলিংয়ে অবদান রাখছেন মিরাজ। গতকাল শেষ বিকালে বোলিংয়ে এসে দেশের হয়ে দ্রুততম ১০০ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েছেন এই অফস্পিনার। নবম ওভারে মোসলিকে নিজের শততম শিকার বানান তিনি। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ নিয়েছেন মিঠুন।
মোহাম্মদ রফিক, সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম তথা তিন বাঁহাতির পর বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে উইকেটের সেঞ্চুরি করলেন মিরাজ। তবে ম্যাচ, ইনিংসের হিসেবে অগ্রজদের ছাড়িয়ে গেছেন এ তরুণ। ২৪ ম্যাচে ১০০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাইজুল ২৫ ম্যাচ, সাকিব ২৮ ম্যাচ, রফিক ৩৩ ম্যাচে এ মাইলফলক ছুঁয়েছেন।
গতকাল দিনের খেলা শেষে নিজের অর্জন নিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘১০০ উইকেট পেয়েছি, খুব ভালো লাগছে। তারা বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে পেয়েছে। আমি ডানহাতি অফস্পিনার হিসেবে দ্রুততম ১০০ উইকেট পেয়েছি, এটা আমাকে আরো ভালো করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
প্রায় পাঁচ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন মিরাজ। অফস্পিনার হিসেবে নিজের জায়গাটাও পোক্ত করেছেন জাতীয় দলে। এখন স্বপ্ন অনেক উঁচুতে যাওয়ার। উইকেট শিকারের মিশন চালিয়ে যেতে চান তিনি।
গতকাল মিরাজ বলেছেন, ‘ভবিষ্যতের কথা তো কেউ বলতে পারে না। তবে আমার স্বপ্ন ক্যারিয়ারটাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে। কত উইকেটে থামত, কত রান করত এটাতো আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। চলছে, চলবে ইনশাল্লাহ। আশা করি যতদিন ক্রিকেট খেলব, ভালো কিছুই হবে।’
আজ সকালে ম্যাচের লাগাম পেতে স্পিনারদের ঘূর্ণি জাদুই বাংলাদেশের মূল ভরসা। মিরাজের কথায় স্পষ্ট নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত স্পিনাররা। আজ ম্যাচের চতুর্থ দিনে ২২ গজে বল হাতে তাদের ভয়ংকর মূর্তি দেখার আশায় গোটা দেশ।
টেস্টে বাংলাদেশের দ্রুততম ১০০ উইকেট শিকারী
বোলার ম্যাচ
মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪
তাইজুল ইসলাম ২৫
সাকিব আল হাসান ২৮
মোহাম্মদ রফিক ৩০
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
দ্বিতীয় টেস্ট, তৃতীয় দিন
ভেন্যু : শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা।
টস :ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস :৪০৯
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস:
(দ্বিতীয় দিন শেষে ১০৫/৪; মুশফিক ২৭*, মিঠুন ৬*)
রান বল ৪ ৬
মুশফিক ক মেয়ার্স ব কর্নওয়াল ৫৪ ১০৫ ৭ ০
মিঠুন ক ব্রেথওয়েট ব কর্নওয়াল ১৫ ৮৬ ২ ০
লিটন ক ব্যাকউড ব কর্নওয়াল ৭১ ১৩৩ ৭ ০
মিরাজ ক ব্রেথওয়েট ব কর্নওয়াল ৫৭ ১৪০ ৬ ০
নাঈম ক ব্যাকউড ব কর্নওয়াল ০ ৩ ০ ০
তাইজুল অপরাজিত ১৩ ১৭ ১ ০
রাহী ক বনার ব জোসেফ ১ ১০ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ৫, ও ১, নো ১০) ১৬
মোট (৯৬.৫ ওভার, অলআউট) ২৯৬
উইকেট পতন: ৫-১৪২ (মিঠুন), ৬-১৫৫ (মুশফিক), ৭-২৮১ (লিটন), ৮-২৮১ (নাঈম), ৯-২৮৩ (মিরাজ), ১০-২৯৬ (রাহী)।
বোলিং :গ্যাব্রিয়েল ২১-৩-৭০-৩, কর্নওয়াল ৩২-৮-৭২-৫, জোসেফ ১৭.৫-৩-৬০-২, মেয়ার্স ৮-২-১৫-০, ওয়ারিকান ১৩-২-৪৮-০, বনার ৩-০-১৭-০, ব্রেথওয়েট ২-০-৭-০।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস
ব্রেথওয়েট ক লিটন ব নাঈম ৬ ১৩ ১ ০
ক্যাম্পবেল ব তাইজুল ১৮ ৪৮ ০ ০
মোসলি ক মিঠুন ব মিরাজ ৭ ২০ ০ ০
বনার ব্যাটিং ৮ ৩০ ১ ০
ওয়ারিকান ব্যাটিং ২ ১৫ ০ ০
অতিরিক্ত ০
মোট (২১ ওভারে, ৩ উইকেট) ৪১
উইকেট পতন: ১-১১ (ব্রেথওয়েট), ২-২০ (মোসলি), ৩-৩৯ (ক্যাম্পবেল)
বোলিং : তাইজুল ৭-২-১৩-১, নাঈম ১০-৩-১৪-১, মিরাজ ৪-০-১৪-১।
