শেষ পর্যায়ে অভিশংসনের বিচার

অব্যাহতি পাচ্ছেন ট্রাম্প!

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:৪৫

মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার শেষ হতে চলেছে। তবে এবারও সিনেটে তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে সিনেটে দুই দলের সদস্য সংখ্যা সমান (৫০-৫০)। ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরকে ভোট দিতে হবে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, সর্বোচ্চ ১০ জন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে ভোট দিতে পারেন। তাই          ট্রাম্পের অব্যাহতি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। খবর :সিএনএন ও আলজাজিরার।

গত ৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে হামলা চালায় ট্রাম্প সমর্থক ও কট্টর ডানপন্থিরা। হামলার আগে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ ট্রাম্প এই হামলায় উসকানি দিয়েছেন। ইতিমধ্যে উসকানির দায়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক মেয়াদে নিম্নকক্ষে কোনো প্রেসিডেন্টের দুইবার অভিশংসিত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম। গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। সিনেটে ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন করতে পারবেন না।

গত মঙ্গলবার সিনেটে বিচার শুরু হয়। টানা তিন দিন যুক্তি দেন ডেমোক্র্যাট দলের অভিশংসন ম্যানেজাররা। তারা বলেন, ট্রাম্প মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন। তাকে দোষী সাব্যস্ত করা না হলে ভবিষ্যতে ক্যাপিটলে আরো হামলার ঝুঁকি থেকে যাবে। এরপর শুক্রবার চার ঘণ্টায় যুক্তি ও বক্তব্য তুলে ধরেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তারা বলেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উসকানির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ‘মহা মিথ্যা’। সাবেক প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বক্তব্য কাটছাঁট করে উপস্থাপন করেছে। ট্রাম্পেরও বাক স্বাধীনতা রয়েছে। তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি খারাপ প্রভাব ফেলবে এবং তাদের শাস্তি দেওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে। ট্রাম্পের আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ ধাপে পৌঁছেছে।

গতকাল শনিবার (বাংলাদেশ সময় রাতে) সিনেটের বিচারে সাক্ষী আনা হবে কি না তা নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। সাক্ষী আনার বিষয়ে দুই পক্ষ ভোটের ব্যাপারে একমত হলে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হবে। আর যদি ভোটাভুটি না হয় সে ক্ষেত্রে দুই পক্ষ সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার জন্য এক ঘণ্টা করে সময় পাবে। এরপরই ট্রাম্পর্কে দোষী সাব্যস্ত করা হবে কি না সে ব্যাপারে ভোটাভুটি হবে। ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে ৫০ জন ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে কমপক্ষে ১৭ রিপাবলিকান সিনেটরকে ভোট দিতে হবে। কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে সে সম্ভাবনা খুবই কম। সর্বোচ্চ ১০ জন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে ভোট দিতে পারেন। তাই ট্রাম্পের অব্যাহতি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও শেষ মুহূর্তে আরো রিপাবলিকান সিনেটররা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেন কি না—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ইউক্রেনকে চাপ প্রয়োগ, সামরিক সহায়তাকে ঘুষ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগে ২০১৯ সালের শেষ দিকে প্রথমবার অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখে পড়েন ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদে তাকে অভিশংসিত করা হয়। কিন্তু সিনেটের ভোটাভুটিতে তিনি রক্ষা পান।

রিপাবলিকান দলে ট্রাম্পের ভবিষ্যত্ নেই :নিকি হ্যালে

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, রিপাবলিকান দলে ট্রাম্পের আর কোনো ভবিষ্যত্ নেই। পলিটিকো ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ট্রাম্প আমলের এই কূটনীতিক বলেন, ট্রাম্পের কারণে আমরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি সেটা মানতে হবে। তিনি যে পথে গেছেন সেটা উচিত হয়নি। তাকে অনুসরণ বা তার কথা শোনা আমাদের উচিত হয়নি। এ ধরনের কিছু আবারও হোক আমরা সেটার সুযোগ দিতে পারি না। ভবিষ্যতে রিপাবলিকান পার্টির যারা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন তাদের মধ্যে নিকি হ্যালে অন্যতম। তিনি সাউথ ক্যারোলিনার সাবেক গর্ভনর।