নোয়াখালীতে নারীসহ তিন প্রতারক গ্রেফতার, ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাত্

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:৪৬

প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচ জেলার পাঁচ ব্যক্তির কাছ থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নারীসহ তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে নোয়াখালী সিআইডি পুলিশ। শুক্রবার রাতে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এই সদস্যদের ঢাকার মাতুয়াইল মহিলা মাদ্রাসা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে  গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দুপুরে জেলা সিআইডির পুলিশ সুপার মো. বশির আহমেদ তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলো, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত রাজ্জাক মিয়ার ছেলে সুরুজ্জামান মিয়া ওরফে সুরুজ মেম্বার ওরফে কামাল (৫১), যশোর জেলার বাগারপাড়া উপজেলার জামালপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে  হাবিবুর রহমান ওরপে দীপু  ওরফে শরিফুল ইসলাম (২৫) ও নরসিংদী সদর উপজেলার খাদসিয়া পাঁচদোনা গ্রামের সুন্দর আলীর মেয়ে রিনা বেগম ওরফে  জামেলা বেগম (৪০)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির পুলিশ সুপার মো. বশির আহমেদ জানান, নোয়াখালী, চাঁদপুর, নরসিংদী, মৌলভীবাজার ও জামালপুর  জেলার ছয় জন ব্যক্তির থেকে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে তারা ধাপে ধাপে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা নেয়। নোয়াখালীর ফার্নিচার ও কাঠ ব্যবসায়ী মো. ফারুক প্রতারণার শিকার হয়ে ১৫ লাখ টাকা হারিয়ে এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে    সোনাইমুড়ী থানায় মামলা করেন। সিআইডি স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির  তদন্তভার গ্রহণ করে। চার মাস তদন্তের পর এ প্রতারক চক্রের সন্ধান পান তারা এবং তিন জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। পুলিশ সুপার জানান, এই প্রতারক চক্রটি সৌদি সরকারের অর্থায়নে মসজিদ ও মাদ্রাসা বা নতুন বিল্ডিং করে দেবে অথবা জায়গা ক্রয় করে দেবে বলে লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। তাদের কাছ থেকে কৌশলে বিভিন্ন জমিজমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নিয়ে যায় তারা। একই সঙ্গে লোকজনকে নগদ অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য প্রলুব্ধ করে। এভাবে নোয়াখালীসহ  পাঁচ জেলার ছয় জন ব্যক্তির থেকে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারক চক্র।   এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরো কয়েক জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গতকাল দুপুুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।