স্পিনারদের ঘূর্ণিতেই আশার আলো

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:৫৯

কোণঠাসা না হলেও ঢাকা টেস্টের লাগাম পেতে প্রাণপণ লড়ছে বাংলাদেশ দল। গতকাল সকালে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীনতার পর লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ম্যাচে টিকে থাকার আবশ্যক কর্ম সেরেছিল স্বাগতিকরা। শেষ বিকালে স্পিনারদের ঘূর্ণিতে জ্বলেছে আশার সলতে। বাংলাদেশের ভাগ্য এখন স্পিনত্রয়ীর হাতে, সঙ্গে ম্যাচের নাটাইও। আজ চতুর্থ দিনে তাইজুল, মিরাজ, নাঈমের ভেল্কির দিকেই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।          ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস যত দ্রুত শেষ হবে, ততই জোরালোভাবে ম্যাচে ফিরবে মুমিনুল হকের দল। গতকাল ৩ উইকেটে ৪১ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করেছে উইন্ডিজরা। এনক্রুমা বনার ৮, নাইটওয়াচম্যান জোমেল ওয়ারিকান ২ রানে ব্যাট করছেন। তাদের লিড এখন ১৫৪। চা-বিরতির পর প্রথম ইনিংসে ২৯৬ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ।

গতকাল প্রথম ইনিংসে ১১৩ রানের লিড নিয়ে খেলতে নামা ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরেছিলেন স্পিনাররা। তিন জনই একটি করে উইকেট পেয়েছেন। চতুর্থ ওভারে নাঈম ফেরান ক্রেইগ ব্রেথওয়েটকে (৬)। নবম ওভারে মোসলিকে (৭) নিজের শততম শিকার বানান মিরাজ। দলীয় ৩৯ রানে জন ক্যাম্পবেল বোল্ড হন তাইজুলের বলে। তিনি ১৮ রান করেন। পরে বনার ও ওয়ারিকান অবিচ্ছিন্ন থেকেই ফিরেছেন।

আগের দিনের ৪ উইকেটে ১০৫ রান নিয়ে খেলতে নেমে গতকাল শেষ ৬ উইকেটে ১৯১ রান যোগ করে বাংলাদেশ। দিনের নবম ওভারে মুশফিক-মিঠুনের ৭১ রানের জুটি ভাঙে। মিঠুনের (১৫) জমাট রক্ষণ ভেদ করেন কর্নওয়াল। ২২তম হাফ সেঞ্চুরি করার পর মুশফিক ফিরেছেন দৃষ্টিকটুভাবে। দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। কর্নওয়ালকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে কভারে ক্যাচ দিয়েছেন ৫৭ রান করা মুশফিক। ১৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফলোঅনের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। লিটন-মিরাজের ব্যাটে সেই চ্যালেঞ্জ পাড়ি দেয় টাইগাররা। ৪২ ওভার ব্যাট করে ১২৬ রান যোগ করেন তারা।

চা-বিরতির পর কর্নওয়ালকে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সপ্তম হাফ সেঞ্চুরি করা লিটন। ৭১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দুই বল পরই নাঈমকে (০) নিজের পঞ্চম শিকার বানান ক্যারিবিয়ান অফস্পিনার। মিরাজের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরিটা বড় হতে দেননি গ্যাব্রিয়েল। ৫৭ রান করেন তিনি। তাইজুল ১৩ রানে অপরাজিত থাকলেও আবু জায়েদ রাহীর (১) বিদায়ে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। কর্নওয়াল ৭৪ রানে ৫টি, গ্যাব্রিয়েল ৩টি, আলজারি জোসেফ ২টি করে উইকেট পান।