প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনী বার্তা জানাতে গাছের মগডালে বসে ‘কোয়াক কোয়াক’ ডাকে সুর তোলে যে পাখি, তার নাম বউকথাকও। নতুন পাতার কচি সবুজের মাঝে হলুদ রঙের এ পাখিটিকে কেউ বলে ‘বেনে বউ’। কোকিল প্রজাতির এ পাখিটি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও রাশিয়ায় দেখা যায়।
মাঝারি আকারের এই পাখিটি নিভৃতচারী ও লাজুক স্বভাবের। স্ত্রী-পুরুষ একই রকম। দেহের ওপরের দিকটা ধূসর বর্ণের এবং পিছনটা কালো পালকে লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও পাখায় বাদামি এবং সাদা বর্ণের মিশ্রণ থাকে। এদের অক্ষিগোলক ধূসর থেকে হলুদ বর্ণের। চোখের মণি হালকা বাদামি থেকে লোহিত আকারের হয়ে থাকে। স্ত্রী পাখি দু-তিনটি ডিম দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে ১৪ দিনের মতো লাগে। কীটপতঙ্গ, ফল ও ফুলের নির্যাস এদের খাবার। মাকড়সার জাল, গাছের আঁশ, পাখির নরম পালক দিয়ে এরা বাসা বানায়।
বউকথাকও পাখির ডাক অনেক দূর থেকে শোনা যায়। গ্রামের মানুষের কাছে এই পাখির ডাকের বিশেষ মানে আছে। তাদের ধারণা এই পাখি ডাকলে বাড়িতে মেহমান আসে।
মো. রেদোয়ান হোসেন
