ফুলের ওপর বসে মধু আহরণ করছে শত শত মৌমাছি। সূর্যমুখীতে যেন সূর্যের হাসি! সারি সারি ফুলের গাছ। লাল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙের ফুল সবুজ পাতায় মোড়ানো। পুরো মাঠ যেন তারার মেলা। চারদিক থেকে যদি হাওয়ায় ভেসে ভেসে বাহারি ফুলের গন্ধ আসে, তবে ঘুম না আসারই কথা। ফুলের গন্ধে ঘুম কেড়ে নেওয়ার মতোই একটি গ্রাম সাবদি। যেদিকে দু’চোখ যায় কেবল ফুল আর ফুল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই চোখ জুড়িয়ে আসে। ফুলের সুবাস মন ভরিয়ে দেয়।
সাবদি গ্রাম, ঢাকার কাছেই নারায়ণগঞ্জে। এ গ্রামের আশপাশের সব জমি ও বাড়ির আঙিনায় কাঠমালতি, গাঁদা, ডালিয়াসহ হরেক রকম ফুলের ঢলাঢলি। সাবদিসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে পা রাখলেই বিস্ময় জাগে। কয়েক বর্গমাইলব্যাপী নানা ফুলের গুচ্ছ গুচ্ছ বাগান। রাস্তার দু’ধারে হাজারো কাঠমালতি। সমস্ত জমিতে ফুল আর ফুল। ফুলের সাম্রাজ্য চোখে পড়বে সাবদি ছাড়াও দিঘলদী, সেলশারদী, মাধবপাশা, আইছতলাসহ সোনারগাঁও উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। সাবদি ও দিঘলদী গ্রাম ‘ফুলের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে ফুলচাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় সাবদি ও দিঘলদী গ্রামের অবস্থান। গ্রামগুলোর পাশ ঘেঁষে বয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্র। এর পশ্চিম ধারে শুধুই কাঠমালতি। ব্রহ্মপুত্রের তীরে ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা শান্ত পরিবেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে পাঁচ-ছয় হাজার লোক জড়িত ফুল বিষয়ক বাণিজ্যে। তারা ফুল উত্পাদন, ফুলের মালা তৈরি ও ফুল বিক্রিতে সরাসরি জড়িত। প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার ফুল ঢাকা ও চট্টগ্রামের ফুলের আড়তে যায়। এমনকি কয়েকটি দেশে রপ্তানিও হয়ে থাকে। এতে বেড়েছে দেশের সুনাম। সরকারও লাভবান হচ্ছে।
ফুলচাষিরা বাগান থেকে তুলে আনা ফুল দিয়ে বাড়ির আঙিনায় মালা গেঁথে সন্ধ্যায় সাবদি বাজারে নিয়ে জড়ো করে। সাবদি বাজার থেকে ট্রাকে করে পাইকাররা প্রতি রাতে এসব ফুল ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।
ফুলচাষিদের কাছে জানা যায়, ফুল তাঁদের পুরো এলাকার চিত্র পালটে দিয়েছে। গ্রামের সবাই এখন স্বাবলম্বী। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সাবদিতে ফুলপ্রেমিদের ভিড় জমে। একটু অবসর পেলেই দৃষ্টি এবং মন জুড়াতে চলে যেতে পারেন সাবদি এবং তার আশপাশের গ্রামগুলোয়। আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অপরূপ সৌন্দর্যের অনন্য ভুবন।
হাসান মাহমুদ রিপন
