দীর্ঘ ৩ দশক ধরে দেশের সংগীতের সঙ্গে পথ চলছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সায়রা রেজা। নিজের অর্জনের পাল্লা ভারি করেছেন বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি পুরস্কার আর সম্মাননায়। সম্প্রতি তার সফলতার ঝুড়িতে যুক্ত হয়েছে চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। মিউজিকে সফল পদচারণা ও ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
নতুন বছর ও ভালোবাসা দিবসে শ্রোতা-দর্শকদের জন্য আপনার উপহার কী থাকছে?
ভালোবাসা দিবসে রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় ‘যার লাগিয়া’ শিরোনামে আমার একটি নতুন গান প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া ‘পরাণ পাখি’ শিরোনামের একটি গান শিগগিরই প্রকাশ পাবে।
আপনি দেশের বাইরে থাকেন বেশিরভাগ সময়। এতে করে দেশের সংগীতে নিজেকে যুক্ত রাখা কতটা সম্ভব হয়?
না, এতে কোনো সমস্যা হয় না। কারণ আমি দেশের বাইরে থাকলেও দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সবসময়ই যুক্ত থাকি। মাঝে মাঝে দেশে এসে গানে কণ্ঠ দিই ও শো করি। এছাড়া বিদেশেও কিন্তু আমি নিয়মিত শো করি। এমনকি সেখান থেকেও আমি দেশের জন্য গানে কণ্ঠ দিই। সম্প্রতি চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড পেলাম যে গানটির জন্য, সেটাসহ আরো বেশকিছু গানে আমি বিদেশে বসেই কণ্ঠ দিয়েছি। তবে হ্যাঁ, এখানে থাকলে দর্শকদের বেশি কাছাকাছি থাকা যায়। ওখানেও শো হয়, তবে দর্শক সমুদ্র আর পুকুরের মতো!
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সংগীতের নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। কোন ঘরানার গান গাইতে বেশি পছন্দ করেন?
আমি রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক, চলচ্চিত্রসহ সব ধরনের গান গাইতে পারি। তবে আমার প্রাণের গান হলো আরবান ফোক। আমি সুফিগান, লোকগানকে আমার স্টাইলে আরবান ফোক করে গাইতে বেশি পছন্দ করি। তবে আমার ঢংয়ে গাইলেও বিকৃত করে গাই না।
বর্তমান সময়ে ভিউ গুনে গানের মানদণ্ড বিচার করেন অনেকেই? বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?
আসলে ভিউ গুনে মান বিচারের পক্ষে আমি না। ভিউ হলেই গান হিট, তা নয়। যদি গানটি অন্যরা কাভার করে পোস্ট করে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গায়, আলোচনা করে, তবেই বুঝবো গানটির গ্রহণযোগ্যতা আছে। আমি এটাকেই বলবো জনপ্রিয়তা, শুধু ভিউ গোনাকে বলবো না।
গানের জগতে নতুন মাধ্যম যুক্ত হওয়ায় মানহীন কাজের ছড়াছড়ি। এটা কী শুদ্ধ সংগীত বা সংস্কৃতি চর্চার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন না?
আসলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আমরা যদি একটু সচেতন হই, ভালো গানকে বেছে নিই তাহলেই নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবো। এ ধরনের গান কিছু লোকের জন্য। তাছাড়া এই গান ও গানের শিল্পীও ক্ষণকালীন হয়। একটা সময় ঠিক ঝরে যাবে।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের লোকসংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সময় এসেছে কী? তাদের আগ্রহ কেমন দেখছেন?
শুধু এখন না, আগেও লোকগান বা সুফিগানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ ছিল। শুধু আমাদের দেশে না, সব দেশেই এই গানের চর্চা হয়, হচ্ছে। আর নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই গানকে ভিন্ন আঙ্গিকে গাইছে সুর ঠিক রেখে। তরুণ প্রজন্মের যারা ব্যান্ড গড়ছে তারা কিন্তু বাউল গানকে ফিউশন করে গাইছে। ফিউশন করে গাইলেও তারা কিন্তু গানটিকে বিকৃত করছে না। এতে করে আমাদের পুরনো গানগুলো ফিরে আসছে। তাদের লোকগানের সঙ্গে এই সম্পৃক্ততা আমাকে সত্যি মুগ্ধ করে।
অডিও ইন্ডাস্ট্রি যুগের আলোকে বর্তমান সংগীতাঙ্গনের অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সেই সময়টা আমিও পেয়েছিলাম। এখন তো গান হয়ে গেছে দেখার ও শোনার বিষয়। তবে অ্যালবামের যুগ না থাকলেও গান কিন্তু মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। রুচির পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ভালো গান ছাড়াচ্ছে।
