সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিষয় সামনে এসেছে। দেশের বেশিরভাগ চিড়িয়াখানায় খাবার হিসেবে জ্যান্ত প্রাণী দেওয়া হয়। বিষয়টি হূদয়বিদারক। জীবিত খরগোশ খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে সাপের খাঁচায়। এসব প্রাণীকে যেহেতু সাপের খাবার হিসেবে দেওয়া হয়, সেহেতু তাদের কোনো খাবার খেতে দেওয়া হয় না। খাবার হিসেবে দেওয়া এসব প্রাণী অনেক সময় সাপ খায় না, কিন্তু প্রচণ্ড ক্ষুধার জ্বালায় খাঁচাবন্দি খরগোশ ছটফট করতে করতে এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। শুধু সাপের খাঁচায় খরগোশ নয়—বাঘ, কুমির ও সিংহের খাঁচায়ও খাবার হিসেবে জীবিত মুরগি, খরগোশ ইত্যাদি দেওয়া হয়। বহিঃবিশ্বে জীবিত প্রাণীকে সাপের খাঁচায় দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ হলেও আমাদের দেশে এই রীতি মানা হচ্ছে না। খাঁচার প্রাণীকে মৃত প্রাণীর মাংস দেওয়া হলে যদি খায়, তাহলে জীবন্ত প্রাণী খাবার হিসেবে দেওয়ার রীতি বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মানবিক কারণেই লন্ডনের চিড়িয়াখানাগুলোতে ১০০ বছর আগে থেকেই জীবিত প্রাণী খাবার হিসেবে দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। খাঁচার মধ্যে মৃত্যুর ক্ষণ গুনছে একেকটা প্রাণী আরেকটি অপেক্ষাকৃত শক্তিধর প্রাণীর সামনে! এটা কাম্য হতে পারে না। পরিশেষে, চিড়িয়াখানায় খাবার হিসেবে জ্যান্ত প্রাণী না দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার জন্য প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ আশা করছি।
আরিফুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ
