নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে পায়রা নদীতে চলছে ড্রেজিং। আর ডেজিং করা বালু বাঁশের বেড়া দিয়ে ফেলা হচ্ছে আবার নদীতেই। এতে সাময়িক নাব্য ফিরে এলেও এ ড্রেজিং দীর্ঘমেয়াদি কোনো উপকারে আসবে না বলে জানিয়েছে ঐ রুটে চলাচলকারী ফেরি, কার্গো, লঞ্চ ও ট্রলারের চালকরা। তারা বলন, স্বাভাবিক ঢেউয়ে এসব বালু আবার নদীতেই ফিরে আসবে। বরং ড্রেজিংকৃত বালু স্থলভাগে ফেললে কয়েক বছর নৌ চলাচল অব্যাহত রাখা যেত।
জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগের জন্য খরস্রোতা পায়রা একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। কিন্তু কয়েক শ বছরে নদীর বিভিন্ন স্থানে চর পড়ায় নাব্য কমে গিয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ আমতলী ফেরি ও লঞ্চঘাটসংলগ্ন পায়রা নদীতে ড্রেজিং কাজ শুরু করে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বরগুনা বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ সিএসডি ভিশন নামের একটি ড্রেজিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। ঐ কোম্পানি ফেরি ও লঞ্চঘাটসংলগ্ন পায়রা নদীতে ৩৬০ ফুট দীর্ঘ একটি চ্যানেল তৈরির কাজ করছে। কিন্তু তারা নদীর বালু তুলে আবার নদীতেই ফেলছে।
এ বিষয়ে সিএসডি ভিশন ডেজিং কোম্পানির ম্যানেজার মো. সাব্বির আহম্মেদ বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা আমাকে যেভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছে সেই অনুযায়ী কাজ করছি।’ এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল মিয়া বলেন, ‘পাইপ দিয়ে ড্রেজিংয়ের স্থান থেকে ৯০০ ফুট দূরে নদীর মধ্যে বালু ফেলছি। ঐ বালু যাতে না আসতে পারে সে কারণে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। যাতে খনন করা চ্যানেলে বালু আসতে না পারে।’
বরগুনা বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার মো. মামুন অর-রশিদ বলেন, ড্রেজিংয়ের খননকৃত বালু নদীর স্থলভাগে ফেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বালু ফেলার জায়গা পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই বালু নদীতে ফেলতে হচ্ছে। একই কথা জানান বিআইডব্লিউাটএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক।
