করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাজিবপুর বর্ডার হাট বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে হাটটি বন্ধ থাকায় কার্ড হারানো শঙ্কা দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। এদিকে অন্য আয়ের উত্স না থাকায় অধিকাংশ পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সীমান্ত হাটকে রক্ষার জন্য ও ভারত-বাংলা অর্থায়নে এ হাটকে আধুনিকায়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধম্যে চালু রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, ভারত-বাংলাদেশ ঐতিহ্যবাহী হাটটি ২০১১ সালের ২৩ জুলাই দুই দেশের আন্তর্জাতিক ১০৭২ নম্বর পিলার ১৯ নম্বর সাব-পিলারের কাছে স্থাপিত হয়।
ক্রেতা জহুরুল বলেন, এ হাট প্রতি সপ্তাহে সোম ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত চালু ছিল। আমরা সংসারের প্রয়োজনীয় বাজার সস্তায় করতাম। হাট অনেক দিন বন্ধের কারণে ঐ পারের আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। বিক্রেতা হামিদুর জানান, এ হাটের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বহু মানুষ কাজ হারায়। ফলে শেষ হতে চলেছে জমানো সামান্য পুঁজি। সীমান্ত এলাকাগুলো এমনিতেই নিম্ন আয়ের অরক্ষিত এলাকা। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অভাবে নিম্ন আয়ের ও অরক্ষিত মানুষেরা আরো ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। অর্থের অভাবে আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখায় আরো পিছিয়ে যাচ্ছে।
বর্ডার হাট কমিটির সদস্য ও রাজিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল জানান, করোনায় দীর্ঘ দিন হাটটি বন্ধ রয়েছে। এতে দুই দেশের ক্রেতা-বিক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিছু দিন আগে হাট কমিটির সভাপতিসহ আমরা মিটিং করেছি। শিগগিরই হয়তো হাট খুলবে। এহাটে বাংলাদেশের ২৫ জন বিক্রেতা ও ৬১৪ জন ক্রেতা এবং ভারতের ৫০ জন বিক্রেতা ও ৩৫৯ জন ক্রেতা প্রতি সোম ও বুধবার কেনাবেচা করতেন।
বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুজাউদ্দৌলা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটটি আবার চালু করতে ভারতের চিঠি পেয়েছি। আমরা হাট চালু করতে সভায় রেজুলেশন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। ওখান থেকে অনুমতি পেলে হাটের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।
