চট্টগ্রামে নানান আয়োজনে গতকাল রবিবার ঋতুরাজ বসন্ত উদ্যাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় সেই আয়োজনে এসেছে ভিন্নতাও। এ উপলক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল—বাংলার চিরায়ত গান, নাচ, পিঠা উত্সব, কথামালা, শোভাযাত্রা, যন্ত্রসংগীত, একক ও বৃন্দ আবৃত্তি, একক ও দলীয় সংগীত।
নগরীর সিআরবিতে শিরীষতলা প্রাঙ্গণে রেলওয়ের মুক্তমঞ্চে বসেছিল প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের আসর। সকালে আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসানের আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। ভায়োলিনিস্ট চিটাগংয়ের বেহালা বাদনে উত্সবে তৈরি হওয়া গাম্ভীর্য ভেঙে দেন প্রমা অবন্তীর ওড়িশি অ্যান্ড টেগোর ডেন্স মুভমেন্টের নৃত্যশিল্পীরা। প্রমার শিল্পীদের বৃন্দ আবৃত্তির পাশাপাশি রোজী বিশ্বাস ও ফুলকি বড়ুয়ার একক গানও ছিল মনোমুগ্ধকর। বিকালে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ বিশিষ্টজনদের কথামালা দিয়ে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
বোধন আবৃত্তি পরিষদের একাংশ চট্টগ্রাম নগরীর আমবাগানে রেলওয়ে জাদুঘরের সামনে শেখ রাসেল পার্কের মুক্তমঞ্চে বসন্ত বরণের আয়োজন করে। বোধনের শিল্পীদের বৃন্দ পরিবেশনা ও সুবর্ণা চৌধুরীর একক আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সকালে শুরু হয় অনুষ্ঠান। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নূত্যরূপ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ। দলীয় সংগীতে ছিল সুরপঞ্চম ও অভ্যুদয়। একক আবৃত্তিতে ছিলেন তাসকিয়া-তুন-তানিয়া। মোস্তফা কামাল, কান্তা দে, সুতপা চৌধুরী মুমু, হিমু দাশ, তাসমীন যারীন ইসমি একক সংগীত পরিবেশন করেন। বিকালে আয়োজনে ছিল কথামালা, শোভাযাত্রা, যন্ত্রসংগীত, একক ও বৃন্দ আবৃত্তি, একক ও দলীয় সংগীত।
বোধন আবৃত্তি পরিষদের আরেক অংশ নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চত্বরে বসন্ত উত্সবের আয়োজন করে। সকালে প্রবীর পালের আবৃত্তি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর ওস্তাদ স্বর্ণময় চক্রবর্তীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় উচ্চাঙ্গ সংগীত। চলে গান, নৃত্য, বৃন্দ ও একক আবৃত্তিসহ বিভিন্ন পরিবেশনা। এ আয়োজনে পিঠাপুলি-চায়ের স্টলের সঙ্গে বৈচিত্র্য এনেছে গ্রামবাংলায় শিশুদের বায়োস্কোপ দেখার আসর।
এছাড়াও নগরীর জামালখান ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে চট্টল ইয়ুথ কয়ার আয়োজন করে পিঠা উত্সব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
