প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সম্মিলিত পদক্ষেপের ফলে করোনা ভাইরাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার ফলে করোনার মতো একটা মহামারি থেকে আমরা অনেকটাই সুরক্ষিত হতে পেরেছি। গতকাল রবিবার সকালে ‘কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্স অ্যান্ড ক্যানসার রিসার্চ’ নামে নারায়ণগঞ্জে একটি ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমুদিনী কমপ্লেক্স নারায়ণগঞ্জে মূল অনুষ্ঠানে সঙ্গে যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী নিজের অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের দেশের চিকিত্সকরা গবেষণায় খুব একটা সময় ব্যয় না করে রোগী দেখেই সময় কাটান।’ তিনি বলেন, ‘আসলে যাদের গবেষণা করার কথা সে সব চিকিত্সক রোগী দেখতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। কাজেই হাতেগোনা খুব কমজনকেই আমি দেখি যাদের পাবলিকেশন্স এবং রিসার্চ রয়েছে।’
চিকিত্সা বিজ্ঞান বিশেষ করে ক্যানসারের ওপর আরো গবেষণায় গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর সঙ্গে ক্যানসার কীভাবে বিস্তার লাভ করে সেজন্য গবেষণা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গবেষণার সুযোগ খুবই কম। বিশেষ করে চিকিত্সা বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা খুব বেশি একটা হচ্ছে না। যেটা হওয়া একান্তভাবে প্রয়োজন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ক্যানসার এমন একটা রোগ এবং যেভাবে এর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে, সেভাবে ডায়াগনোসিস আমাদের দেশে হচ্ছে না। দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর সঙ্গে এই ক্যানসার কীভাবে বিস্তার লাভ করে সেটার চিকিত্সার জন্য যে গবেষণা দরকার সেটা আমাদের দেশে খুব কমই হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালে সরকার গঠনের পর রিসার্চের জন্য অনেকগুলো ইনস্টিটিউট তৈরি করে গিয়েছিলাম এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে সেগুলোকে আরো উন্নত করার পাশাপাশি আরো নতুন ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। কারণ গবেষণা আমাদের জন্য একান্ত অপরিহার্য। শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্স অ্যান্ড ক্যানসার রিসার্চ’ শীর্ষক এই সেন্টারটা যখন তৈরি হবে তখন এদেশে ক্যানসার চিকিত্সার সুযোগ মানুষ আরো ভালোভাবে পাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দেশের সব বিভাগে অন্তত একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। দেশের সব বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেখানে রিসার্চের সুযোগ হবে। তবে আমি মনে করি যে, বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখনই যে উদ্যোগ কুমদিনী ট্রাস্ট নিয়েছে তা অত্যন্ত সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। সেজন্য আমি ট্রাস্টের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং বিশেষ করে শ্রীমতি সাহা এবং রাজিব সাহার প্রতি।’ এ সময় প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহিতা কুমুদিনী হাসপাতালের সিনিয়র নার্স বেরোনিকা ডি কস্তাকেও তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
‘এক সময় টিকা দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও এখন আর কোনো সমস্যা নেই, সবাই আগ্রহ নিয়ে টিকাকেন্দ্রে আসছেন’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৩ কোটি টিকা কিনে রেখেছি। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সবাইকে আমরা টিকা দেব। তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘ভ্যাকসিন দেওয়া সত্ত্বেও সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তাহলে আমি মনে করি আমাদের দেশ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি চলে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্স অ্যান্ড ক্যানসার রিসার্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাত আরো একধাপ এগিয়ে গেল এবং বেসরকারি খাত আরো উত্সাহিত হবে এবং সবাই চাইবে যেন এ ধরনের সেবামূলক কাজ করতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার নাতি এবং কুমুদিনী ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত্ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট এবং এর প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহার ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয়।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা
পাবেন সব বীর মুক্তিযোদ্ধা
এখন থেকে সরকারি সম্মানী ভাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেতে যাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সব বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা ইলেক্ট্রনিক জি-টু-পি (সরকার থেকে ব্যক্তি) প্রক্রিয়ায় সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণের কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। মূল অনুষ্ঠান হবে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তা উদ্বোধন করবেন। এটা মুজিবর্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধা/উপকারভোগীর অনুকূলে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের সম্মানি ভাতা বাবদ ১৮২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি ভাতাভোগীর ব্যাংক হিসাবে প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রদান করা হবে।
সারা দেশে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৩২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রচলিত পদ্ধতিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জনপ্রতি মাসিক ১২ হাজার টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়া শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত ও খেতাবপ্রাপ্ত মোট ১২ হাজার ৬৭৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রেণিভেদে ১৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক সম্মানি হিসেবে প্রদান করা হয়।
