যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার, এখন আড়াই লাখ ---মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৬

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা খেতাব ইস্যুতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, ১৯৭২ সাল থেকে এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। যারা ছিল রাজাকার, তাদের মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার, এখন হয়েছে আড়াই লাখ। বর্তমান সরকারের আমলে ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ‘বীর-উত্তম’ খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, জিয়াউর রহমানসহ সব মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের অনুরোধ করব, জিয়াউর রহমানের মতো সেরা মুক্তিযোদ্ধার খেতাব নিয়ে টানাটানি করে নিজেরা নব্য রাজাকারে পরিণত হবেন না। তিনি বলেন, ‘গতকাল এক জন মন্ত্রী বললেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তার তথ্যপ্রমাণ নাকি তাদের কাছে আছে। ১৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার সময় আমি তত্কালীন উপ-প্রধান সেনাপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়েছিলাম। আমি তাকে বললাম ৩২ নম্বরের ওপরে আক্রমণ চালানো হয়েছে। আপাদমস্তক সৈনিক জিয়াউর রহমান বলেছেন, সো হোয়াট প্রেসিডেন্ট ইজ কিল্ড, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। প্রেসিডেন্ট নেই তো কী হয়েছে, উপ-রাষ্ট্রপতি আছেন। আমরা সৈনিক, আমরা সংবিধানকে সমুন্নত রাখব। তিনি সৈনিক, আপাদমস্তক সৈনিক ছিলেন, কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলেন না।’

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, শিরিন সুলতানা, গণফোরাম নেতা মোস্তাক হোসেন প্রমুখ।