সে এক অধরা স্পর্শহীন ও স্পর্শছোঁয়া কিংবা অদৃশ্য কোনো সুখবোধ দুঃখবোধের ছায়া। যা ধরা দেয় অসম্ভব সব খেয়ালখুশিতে কিংবা ধরা দেয় না, যেন কিছু একটা আছে স্পর্শে ঘ্রাণে, দেখা না দেখায় আলোছায়ার ভিতর মিলিয়ে যাওয়া পরিষ্কার হওয়া।
আমরা প্রতিদিনই তো মেতে উঠি শব্দের কাটাকুটি খেলায়। শব্দ ভর করে বাঁচি। শব্দ আছে তো আমরাও আছি। এই যে কথা বলা...। ঘুমের ভিতরও শব্দ দেয় হানা, স্বপ্নের দুয়ারে। মানুষ মাত্রই শব্দ খেলায়। তার মানে নীরবতাতে কি শব্দ নেই? আছে। যে শব্দ খেলে মনের গহীন অরণ্যে। সে শব্দও কিন্তু মানুষের সমস্ত প্রাণের ভিতরের শব্দভাণ্ডারে তোলপাড় করে বেলা অবেলায়। কোথায় যেন দেখেছিলাম তারে, আহা শব্দেরে। শব্দ কি দেখা যায়, হ্যাঁ দেখার চোখ থাকলেই কেবল দেখা যায়, চেনাও যায় অদৃশ্য নিঃশব্দ সেই মনের শব্দেরে। যেমন চিনে ফেলে কথা না বলা প্রাণী সকল। কথা না বলেও মনের কথা যায় বলে গোপনে চুপিসারে সুন্দরে প্রকৃতিসংসারে।
আচ্ছা কথা তো আমরা বলিই, তা আর তেমন কী বিষয়। কিন্তু সেই কথাই যখন বলে যান কবি? শব্দ গড়া শব্দ ভাঙার খেলায়, আমরা দেখি কবিতার প্রাণ, আহা কথার কী ঘ্রাণ। কবিতারাও তো কথাই। কী কথা সেই কথার ভিড়ে?
আমাদের চারপাশের প্রকৃতির সুন্দর অসুন্দর আমাদের চোখের ভিতর জেগে ওঠে। এই প্রকৃতিতে আমাদের স্বভাব চলাচলে। দেখার জগত্ দেখার উপভোগ, দেখতে দেখতেই তো বেঁচে থাকি। কিন্তু কোনো শিল্পী যখন সেই দেখা চেনাজানা জগত্টাই ব্রাশে টেনে টেনে ক্যানভাসে আনেন? সেই দেখা আহা এই দেখা, কোথায় যেন টান পড়ে মনে। দেখারও যে আছে ভিন্ন স্বভাব আছে ভিন্ন চোখ। শিল্পীর চোখে কিসের যে ছোঁয়া বলি যা দেখেই চলি। কিন্তু এই দেখা কেন রে সেই দেখারে ছাপিয়ে যায় হূদয় অন্তপুরে। সব কথা কথা নয় রে, সব দেখা দেখা নয় রে আর। আছে রে আছে কিছু হূদয় ছোঁয়ার।
মানুষের বিচিত্র জীবনের গল্প আমাদের চারপাশেই তো থাকে। যে গল্পের চরিত্রগুলো এই প্রকৃতিসংসারে এই জীবনযুদ্ধের দুয়ারে আমাদেরই। আমরাই এক এক চরিত্রে এক এক জীবনের অলিগলি পথে প্রান্তরে ঘরে বাইরে বাজার হাটে শহরে বন্দরে। আমাদের এইসব কাহিনিগুলো যদি জেগে ওঠে বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে...। আমাদের দেখার চরিত্রগুলো এত রূপ কোথায় রে পায়। যা দেখে দেখেও জনমভর আমরা সেই রূপের পেলাম না দেখা। অথচ লেখকের চোখে দেখে দেখি, কিছু একটা তোলপাড় খেলেরে ভিতরে নড়েচড়ে ওঠে কী যেন। লেখকের দেখায় চিরদিন আমাদের প্রতিদিনের চরিত্রগুলোর। আমাদের চারপাশেই যে ছিল, সেরকম করে যে দেখা না হলো, দেখা না রে হয়।
আমাদের জীবনের কাহিনিগুলো যখন ভেসে ওঠে নাটক-সিনেমায়। কাহিনিকারের চিত্রনাট্যকারের নির্মাতার চোখে চেয়ে আমরাও দেখেছি। এই যে আমাদেরই প্রতিচ্ছবি, তবে কেন তা দেখি। আমরা যে এই চরিত্রগুলো দেখে দেখেই অভ্যস্ত। নিশ্বাস নেই বিশ্বাস ফেলি এই চরিত্রের ভিতরই আমৃত্যু। তবে কেন যে সেই চরিত্রগুলো আমাদের টানে শিল্পের ছোঁয়ায় শিল্পীর চোখে সামনে যে আনে।
আলোকচিত্রী :সৈয়দ সায়েম
