এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনায় স্থবিরতা বিরাজ করছে বিশ্ব জুড়ে। ইতিমধ্যে এই জীবনঘাতী ভাইরাসে প্রাণ কেড়েছে ২০ লাখ লোকের। বিশ্ব জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও ১০ কোটির বেশি এবং বর্তমান সময়ে আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। এই জীবননাশক করোনার হাত থেকে বাঁচতে গ্রহণ করা হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। প্রায় এক বছর ধরেই চলছে এর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা। বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কয়েকবারের ব্যর্থতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাশিয়া, চায়না, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ তৈরি করেছে করোনার ভ্যাকসিন।
করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে যখন চলছে প্রিয়জন বিদায়ের মাতাম, ঠিক সেই সময়ই স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার। নতুনভাবে বাঁচার একমাত্র নাম এখন ভ্যাকসিন। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের দিকে। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব থেকে কখনো যাবে করোনা নামক এই ভাইরাসটি। তবুও মানুষ আশার আলো দেখছে এই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে। এর ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রেজেনেকার ‘কোভিশিল্ড’ টিকা উত্পাদন করছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের ভ্যাকসিন উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের। কয়েকটি ধাপে দেশের মানুষের জন্য আনা হবে ভ্যাকসিন।
গত মাসের শেষ নাগাদ দেশে পৌঁছেছে করোনা ভ্যাকসিন। শুরুতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োগের মাধ্যমে দেশে উদ্বোধন হয় জীবননাশক এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন। এর পর কয়েকটি ধাপে দেশে আনা হবে টিকা। টিকার দাম, প্রয়োগ, সুষ্ঠু বণ্টন ও খোলা বাজারে বিপণন নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশাকে ভেস্তে দিয়ে অবশেষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি। সারা দেশের ১ হাজার ৫টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে গণ-টিকাদান কর্মসূচি। শুরুর দিন দেশে মোট ৩১ হাজার ১৬০ জন লোক এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এর পরও অব্যাহত রয়েছে গণ-টিকাদানের এই কর্মসূচি। শুরুতে সমাজের বয়স্কজন ও সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া হয় এই ভ্যাকসিন। প্রথমে ৫৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়স্কদের রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হলেও কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন বয়স কমিয়ে ৪০ বছর করা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রেখে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মানুষকে আনা হবে গণ-টিকাদানের এই কর্মসূচির আওতায়।
দেশে চলছে সরকারিভাবে টিকাদান কর্মসূচি। দেশের সর্বস্তরের মানুষ এর আওতায় আসবে এবং গ্রাম অঞ্চলের মানুষের জন্য এর সুবিধা আরো সহজ করার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন। দূর করতে হবে বিভ্রান্তি। উত্সাহিত করতে হবে টিকাদানে। শহরের মানুষের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও শতভাগ টিকা প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে এই মহামারি থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ আসতে পারে। তাই টিকা নিয়ে অপপ্রচার নয় বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ এবং সর্বস্তরে এর সঠিক বণ্টনই পারে দেশ হতে করোনার প্রাদুর্ভাব দূর করতে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
