অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিলেন ইউপি সদস্য
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কৈজুরী গ্রামে গতকাল সোমবার আব্দুল হালিম নামে এক ভুয়া ডাক্তার ও তার সহকারীকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ না করায় এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আটককৃত দুই জনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চৌহালী গ্রামে।
জানা যায়, উপজেলার কৈজুরী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস আলীর বাড়িতে দুই ব্যক্তি আসেন গরুকে ভ্যাকসিন দিতে। গৃহকর্তা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা এক জন পশু ডাক্তার, অপর জন তার সহকারী বলে পরিচয় দেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাদের পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন এবং গরুপ্রতি ভ্যাকসিন বাবদ ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেন। এ সময় তাদের আচরণে সন্দেহ হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের পশু ডাক্তার সাজাহানকে ফোন করে সত্যতা জানতে চাওয়া হয়। তিনি বিষয়টি উড়িয়ে দেন এবং ঐ দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী বাড়ির মালিক ও এলাকাবাসী তাদের আটক করে স্থানীয় একটি ক্লাবঘরে আটকে রাখেন।
ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন ও পশু ডাক্তার সাজাহান ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ঐ দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেন। একই সঙ্গে স্বীকার করেন, গরুর শরীরে যা পুশ করা হয়েছে তা ভ্যাকসিন নয়। এ সময় তারা তাদের অপরাধের জন্য এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চান। তবে জানা গেছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জসিম উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তাদের ছেড়ে দেন।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন পিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভুয়া ডাক্তার ও তার সহযোগীকে পুলিশে সোপর্দ করার জন্য স্থানীয় মেম্বারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
