তিন বছরের মধ্যে সব অগ্রিম কর বাতিলের দাবি এফবিসিসিআইয়ের

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:১৭

উত্পাদনশীলতা পুরস্কার পেল ৩৩ প্রতিষ্ঠান 

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আগামী তিন বছরের মধ্যে সব ধরনের অগ্রিম আয়কর ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। গতকাল সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে এ দাবি জানান এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। এর আগেও একাধিকবার তিনি এ ইস্যুতে কথা বলেছেন।

জাতীয় পর্যায়ে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখায় ৩১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও দুটি ট্রেড বডিকে পুরস্কৃত করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও)। গতকাল এসব প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করার লক্ষ্যে ঐ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ এবং ইনস্টিটিউশনাল অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ শীর্ষক ঐ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আদায় ও এ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে কাজ করে থাকে। ভবিষ্যতে আয় হতে পারে, এমন ধারণায় বর্তমানে আগেই আয়কর আদায় করা হয়ে থাকে। এটি এআইটি নামে পরিচিত। অন্যদিকে অতীতে অগ্রিম ভ্যাটও (অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি) আদায় করা হতো। বর্তমানে এটিভির বদলে আগাম কর (এটি) নামে প্রায় একই হারে রাজস্ব আদায় করে এনবিআর। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ উপায়ে কর আদায়ের নজির খুব কম। এমনকি এটি প্রমিত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তবুও এ উপায়ে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায় করে আসছে এনবিআর। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এ ইস্যুতে বেশ সোচ্ছার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকালের অনুষ্ঠানেও ইস্যুটি তুলেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি। এ সময় করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

শিল্পসচিব কে এম আলী আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, এনপিও-এর পরিচালক নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারের রূপকল্পগুলোকে সাফল্যের সঙ্গে অর্জন করতে উত্পাদনশীলতার বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক মনোভাব থাকতে হবে।

২০১৯ সালের জন্য দেওয়া এ অ্যাওয়ার্ডের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বঙ্গ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস লিমিটেড, আর এফ এল ইলেকট্রনিক্স, রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্পাহানি টি, নাটোর অ্যাগ্রো, প্লামি ফ্যাশন্স, ইউনিভার্সেল জিন্স, জেনেসিস ওয়াসিং,  আরএফএল প্লাস্টিকস, ডিউরেবল প্লাস্টিক, আকিজ জুট মিলস্, আইয়ান জুট মিলস্, ওয়ান ব্যাংক, সোনার বাংলা ইনসিওরেন্স, ব্রেইন স্টেশন টোয়েন্টিথ্রি, হাতিল কমপ্লেক্স গেট ওয়াল, নর্দান ফ্লাওয়ার মিলস্, রোমানিয়া ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, কনসেপ্ট নীটিং, বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল, প্যাকম্যাট ইন্ডাস্ট্রিজ, বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশন, কিউএনএস শিপিং লজিস্টিকস্, এস আর হ্যান্ডিক্রাফটস্, রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড, মাসকো ডেইরি, জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং, গাজী ওয়্যারস্, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। এছাড়া ইনস্টিটিউশনাল অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় বাংলাদেশ অ্যামপ্লয়ার্স ফেডারেশন ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজকে।