চতুর্থ ধাপে ভাসানচরে পা রাখল আরো ২ হাজার ১০ জন রোহিঙ্গা। গতকাল সোমবার দুপুরে নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজে চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়ে তারা ভাসানচরে পৌঁছায়। ভাসানচরে আসার পরপরই তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা। এ সময় ঘাটে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, চতুর্থ ধাপের এটি প্রথম অংশ। আজ মঙ্গলবার আরো ১ হাজার ৬০০ রোহিঙ্গা ভাসানচরে আসার কথা। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার চতুর্থ ধাপের প্রথম অংশে আসা রোহিঙ্গাদের দলটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ওয়্যারহাউজে। সেখানে নৌবাহিনীর সদস্যরা তাদের ভাসানচরে বসবাসের বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা দেন। ওয়্যারহাউজে তাদের দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয়।
স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেকে নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজে করে ২ হাজার ১০ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর আগে রবিবার কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছায় এই রোহিঙ্গারা। দুপুরে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে প্রথম দফায় ২২টি গাড়িতে ১ হাজার ১৫২ জন এবং বিকালে দ্বিতীয় দফায় ১৭টি গাড়িতে চট্টগ্রামে পাঠানো হয় আরো ৮৬২ জনকে।
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানায়, এর আগে তিন দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৬ হাজার ৬৮৮ জনকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে মোট ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু হলে পরের কয়েক মাসে অন্তত ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে আসে আরো কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ।
