নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫২

 

যে কোনো মুহূর্তে পদত্যাগে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, ‘আমি পদত্যাগ করলে যদি লাভ হয়, দেশের যদি কোনো উপকার হয়, তাহলে আমি যে কোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।’ ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনের চার বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের নিজ কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।      লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন অর্থ অনেকের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই। কিন্তু সেই অবস্থা আজকাল পরিলক্ষিত হয় না। প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কি এখন পূর্বে নির্ধারিত? নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য না হলে কোনো বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আপন মহিমায় বিকশিত হতে পারে না। নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযোগ্য সংস্কার না করার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আজ চার বছর পূর্ণ হলো। পেছনের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে আমাদের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। প্রায় সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে আমরা তৃপ্তি বোধ করি। কিন্তু নির্বাচন বিষয়ে আমাদের সব দাবি জনগণের উপলব্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কেবল রাজনৈতিক দল নয়, নীরব জনগোষ্ঠীর অশ্রুত ভাষা শ্রবণের প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাচন এককেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। এককেন্দ্রিক নির্বাচন বহুদলীয় গণতন্ত্রের উপাদান হতে পারে না। যেহেতু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সেহেতু নির্বাচনের প্রতিটি আইনকানুন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে পালনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে পরিপালন ও সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযোগ্য সংস্কার না করার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে। এই সংস্কার নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলো এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমঝোতা প্রয়োজন। চলমান পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে আমার ধারণা হচ্ছে, নির্বাচন নির্বাসনে যেতে চায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী মে মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে ব্যাপক পরিসরে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনেও সহিংসতার আশঙ্কা করি। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হানাহানি বর্তমানে নির্বাচনের অনুষঙ্গ হয়ে গেছে। কোনো অনভিপ্রেত ঘটনাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মিলে একটি অবিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, বিগত চার বছর ধরে আমি যে বক্তব্য রেখে এসেছি, এটা অনেক সময়ই দেখা গেছে যে, অন্যদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কিংবা নির্দিষ্ট কাগজের পরিপ্রেক্ষিতে আমি ভিন্নমত পোষণ করি। এবং আমি বরাবরই বলি, ভিন্নমত যদি প্রকাশিত না হয়, তাহলে সেটা ভিন্নমত হতে পারে না। ভিন্নমতকে অবশ্যই প্রকাশিত হতে হবে।’