ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন
বিবিসি
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে একজন মন্ত্রীর দপ্তরে সিনিয়র সহকর্মীর দ্বারা এক নারী কর্মী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী বলেছেন, তার দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সেই অভিযোগ তেমন একটা আমলে নেননি এবং তাকে খুব একটা সহায়তাও করেননি। এসব অভিযোগ ওঠার পর দেশটিতে ব্যাপক তোলপাড়ের পর সাবেক সেই কর্মীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।
পার্লামেন্টের সাবেক কর্মী ২৬ বছর বয়সি ব্রিটানি হিগিনস সোমবার টেলিভিশনে এক সাক্ষাত্কারে এসব অভিযোগ করেন। এতে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। যেভাবে তার অভিযোগ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে সেজন্য ক্ষমা চেয়ে মরিসন বলেন, ‘আমি আশা করি ব্রিটানির অভিযোগ আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। আজকের দিনেও একজন অল্পবয়সি নারীকে এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেটা আমাকে মর্মাহত করে। পার্লামেন্টে পেশাদারিত্বের মান এবং চলমান সংস্কৃতি পর্যালোচনা করা হবে।’ এ ঘটনায় হিগিনসের অভিযোগ নতুন করে তদন্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে হিগিনস বলেছেন, রাতে বাইরে খাওয়া-দাওয়া শেষে একজন পুরুষ সহকর্মী তাকে গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বদলে তাকে পার্লামেন্ট ভবনে প্রতিরক্ষা-শিল্পমন্ত্রী লিন্ডা রেনল্ডসের দপ্তরে নিয়ে যান। হিগিনস বলেছেন, মদ পান করার কারণে তিনি ঘুম ভাব অনুভব করছিলেন। তার দাবি তিনি জেগে উঠে দেখেন ঐ পুরুষ সহকর্মী তাকে ধর্ষণ করছেন। পার্লামেন্ট ভবন থেকে বের হওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
হিগিনস বলেছেন, কয়েক দিন পর তার মনে হয়েছে যে লিন্ডা রেনল্ডসের দপ্তর থেকে বিষয়টি ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তিনি যে মানসিক আঘাত পেয়েছেন, তা খাটো করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর লিন্ডা রেনল্ডস তাকে সেই কক্ষেই আলোচনার জন্য ডেকে নিয়ে যান যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে। হিগিনস বলেন, ‘এরকম মনে হয়েছে যে, আমি যেন একটা রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছি।’ হিগিনস পরে দপ্তর পরিবর্তন করে অন্য আর এক মন্ত্রীর অধীনে কাজ করেন। কিছুদিন পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।
পার্লামেন্টে কীভাবে অভিযোগ করার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হয়েছে সেটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মরিসন। তিনি বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে চাই যে কোনো নারী যেন এখানে কাজ করতে গিয়ে নিরাপদ বোধ করেন।’ তবে গত বছর দেশটির এবিসি টিভির এক তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ উঠে এসেছিল যে, কনজারভেটিভ সরকারের মন্ত্রীরা নারী কর্মীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মরিসন পার্লামেন্টে একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় একজন নারী মন্ত্রীকে মধ্যপথে থামিয়ে দেওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন।
