মির্জাপুরে নদীর পাড়ে ইটভাটা!

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৩৩

বাড়ছে দূষণ

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

মির্জাপুরে নদীর আশপাশ ও তীর দখল করে ইটভাটা গড়ে উঠছে। এতে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নদীর পানি কালো হয়ে যাওয়াসহ এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। মঙ্গলবার উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এসব ইটভাটা। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার টাঙ্গাইল জেলার প্রধান সমন্বয়ক মি. গৌতম চন্দ্র এ বিষয়ে বলেন, ‘যারা নদীর তীর দখল করে ইটভাটা তৈরি করে যাচ্ছেন তদন্তসাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’ দেখা গেছে, বংশাই নদীর মির্জাপুর পৌরসভা, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন গোড়াই, আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের আশপাশে এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে। বংশাই ও লৌহজং নদীর পাড়ে গড়ে তোলা ইটভাটা মালিকদের মধ্যে কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘নদীর তীর দখল করে ইটভাটা নির্মাণ হচ্ছে না। নদীর পাশে তাদের নিজস্ব জমি এবং কৃষকের জমি ভাড়া নিয়ে এসব ইটভাটা তৈরি করেছেন। ইটভাটা তৈরির পূর্বে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ইটভাটা তৈরি হয়েছে।’

উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও আজগানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুল কাদের সিকদার বলেন, ‘ইটভাটা তৈরির জন্য সরকারি যে নিয়ম রয়েছে তা মেনেই ভাটা করা হচ্ছে। যাদের ছাড়পত্র নেই তারা হাইকোর্টে রিট করে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কেউ সরকারি নদীর তীর দখল করে ভাটা নির্মাণ করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’ পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী উপপরিচালক মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা নদীর আশপাশ, তিন ফসলি জমি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার আশপাশ ও সরকারি বনাঞ্চলের ভেতরে ও আশপাশে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন তাদের ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। যারা অবৈধভাবে নদীর তীরে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘কোনো অবস্থায় নদী দখল ও সরকারি সম্পত্তি বেহাত হতে দেওয়া হবে না। যারা নদীর আশপাশ ও তীর দখল করে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন, তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’