প্রশ্ন: ২৩১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনা কি ছিল?
এ ধরনের ফ্লাট উইকেটে এ টার্গেট আরামে তাড়া করা যায়। এমন উইকেট ছিল না যে বল টার্ন করে মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে। এদিক-ওদিক বল ঘুরতেছে। খালি অমসৃণ জায়গায় পড়া বল গুলো টার্ন করেছে। আমাদের শুরুটা ভালো ছিল। মিডল অর্ডারে একটা বড় ইনিংস দরকার ছিল। বিশেষ করে আমি যদি ৭০-৮০ রানের একটা ইনিংস খেলতে পারতাম, তাহলে খেলাটা পক্ষে আসতো। এ উইকেটে স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ে জেতা সম্ভব ছিল, উচিত ছিল। আমার কাছে মনে হয়, আমরা পুরো বাজে ব্যাটিং করেছি। ২৩১ রান করা তাড়া করা উচিত ছিল। আমি যদি বলি এক বছর পর টেস্ট খেলছি, এটাও যথেস্ট নয়।
প্রশ্ন: দুই ম্যাচেই দারুণ লড়াই হয়েছে। সিরিজ শেষে পরাজিত দলটি বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে আপনার সবচেয়ে কঠিন সিরিজ কি এটি?
আপনারা হয়তো টেস্ট ম্যাচ হিসেবে উপভোগ করেছেন। কিন্তু আমি ওইভাবে উপভোগ করতে পারি নাই। দেশের মাটিতে এখন আমরা ফেবারিট। আমাদের ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আমরা যদি বিদেশে গিয়ে এমন দাপট দেখিয়ে খেলতাম, লড়াই করে হারতাম তখন বলা যায় খেলাটা উপভোগের ছিল, টান টান উত্তেজনা ছিল।
আমার কাছে মনে হয় শুরু থেকেই খারাপ (অধিনায়কত্ব) যাচ্ছে। খারাপের একটা সীমা ছিল, এটা হয়তো সেই সীমা অতিক্রম করে ফেলছে। ভারত থেকে শুরু করে, পাকিস্তানে একটা টেস্ট, তারপর জিম্বাবুয়ে। চারটা সিরিজ হয়েছে, যার মধ্যে তিনটা বাজেভাবে হারছি। এ সিরিজটা ভালো হবে ভাবছিলাম, প্রত্যাশা ছিল সবার, আমারও। ওইভাবে হয়নি। এটা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি খারাপ হয়ে গেছে, খারাপভাবে হারছি। প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে চারশো রান করেও আমরা জিততে পারি নাই। এ টেস্টে ফ্লাট উইকেটে হারলাম, ২৩১ রান করতে পারি নাই।
প্রশ্ন: একাদশ বলছে স্পিনিং উইকেটের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু খেলা হয়েছে বেশ ভালো উইকেটে। পরিকল্পনা ও বাস্তবতায় বড় ঘাটতি নয় কি?
স্পিন উইকেট আশা করে আমরা কিন্তু এক পেসার খেলিয়েছি। হয়তো ওইভাবে হয়নি যা চেয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয় পরিকল্পনা ঠিক ছিল। হয়তো আমি দেশের মাটিতে খেলে যে সুবিধা পাবো, সেটা নিতে পারি নাই। আরেক হিসেবে যেহেতু স্পিন হয়নি, ওরা চারশো করছে, আমাদেরও উচিত ছিল ৫০০ করা। উইকেট তো ফ্লাট। আমাদের মধ্যে ব্যাটসম্যানরা কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারি নাই। এটাও একটা বড় কারণ। আমরা প্রথম ইনিংসে যখন ১০০ রানের বেশি পিছিয়ে ছিলাম (মিরপুরে), তখনই কিন্তু ম্যাচ অনেকটা আমাদের হাত থেকে চলে গেছে।
প্রশ্ন: আপনি ও হেড কোচ অনেক দিন ধরেই টেস্ট সংস্কৃতি বদলে পেসারদের গড়ে তোলার কথা বলেছেন। অথচ একগাদা পেসার দলে নিয়েও বসিয়ে রাখা হলো। একটু স্ববিরোধী হয়ে গেল কিনা, পেসারদের কি বার্তা দিলেন?
আমার কাছে মনে হয় আমাদের পেস বোলাররা এখন অনেক ভালো করছে। উইকেটের কারণেই ওরা সুযোগ পায়নি। চট্টগ্রামের উইকেটে যদি আমরা পেসার খেলাই, আমার কাছে মনে হয় না যৌক্তিকতা আছে। উইকেটটা কেমন আপনারা জানেন। স্পিনও কিন্তু আরামে খেলা যায়। আগের ২-৩ বছরের পরিসংখ্যান দেখেন, যে কোনো দল যখন ২টা পেসার খেলিয়েছি, কোনো লাভই হয়নি। চট্টগ্রামে উইকেটের কারণে খেলানো হয়নি। এখন রেজাল্ট হয়নি বলে আমার ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে।
ঢাকা টেস্টেও তাই। আমরা ওই উইকেটের কথা চিন্তা করেই পেসার কম ছিল। এটা পেসারদের কোনো বার্তা দেয় না। সামনে আমাদের শ্রীলঙ্কা সফর আছে। পাকিস্তানেও কিন্তু আমরা তিনটা পেসার খেলিয়েছি। বিদেশে গেলে স্বাগতিকরা সবসময় আমাদের জন্য বাউন্সি উইকেট পরিকল্পনা করে। ওখানে তখন ৩টা পেসারও রাখা হয়।
প্রশ্ন: দেশে বসিয়ে রেখে শুধু বিদেশে খেলিয়ে পেসারদের কাছ থেকে সেরা সার্ভিস পাওয়া সম্ভব কি?
আপনার প্রশ্নে যুক্তি আছে। আমি যদি না খেলাই, তার কাছ থেকে আমি কিইবা পাবো। খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। দেখেন মাঝে মধ্যে, পরিস্থিতির কারণে অনেক কিছু করা কঠিন হয়ে যায়। এমনটা আসলে পরিস্থিতির কারণেই হয়। যেটা আপনাকে আগেই বললাম, উইকেট নিয়ে। আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে এটা পরিবর্তন হতেও পারে। আমার মনে হয় পেসারদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। যারা নিয়মিত খেলে, ওদের নিয়মিত চারদিনের ম্যাচগুলো খেলতে হবে।
প্রশ্ন: অধিনায়কত্বে আরেকটু আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ ছিল কিনা?
আমি হয়তো পারতাম। চট্টগ্রামে ফ্লাট উইকেট। ঢাকার উইকেটেও দেখেন বল কিন্তু খুব টার্ন করেনি। ৪, ৫ নম্বর দিনেও। বল অমসৃণ জায়গায় পড়ে যা হওয়ার হয়েছে। ২০১৮ তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে টার্নিং উইকেট ছিল। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টার্নিং উইকেট ছিল। ওই সব উইকেটে আপনি আক্রমণ করতে পারবেন। উইকেট বুঝে আক্রমণ করতে হবে।
