আলজাজিরার বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে :তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫২

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, আলজাজিরার সাম্প্রতিক রিপোর্ট তাদেরই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, বাংলাদেশে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রচণ্ডভাবে লোপ পেয়ে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, বিশ্বব্যাপী তাদের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আলজাজিরায় যে রিপোর্টটি করা হয়েছে, সেটির শিরোনামের সঙ্গে রিপোর্টের কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রিপোর্টের শিরোনাম দিয়েছে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স ম্যান’ আর ভেতরের প্রতিবেদনটি হচ্ছে সেনাপ্রধান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনটা দেখেশুনে মনে হয়েছে এটি ব্যক্তিগত আক্রোশবশত, ‘এনিমোসিটি’বশত। আলজাজিরার মতো একটা টেলিভিশনে এই ব্যক্তিগত আক্রোশবশত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আলজাজিরার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে কমেছে এবং বিশ্বব্যাপী আলজাজিরার নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্টিং—এগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবশ্য আলজাজিরা নিয়ে এই প্রশ্ন আজকে যে প্রথমবার উঠেছে তা নয়, এ প্রশ্ন বহুবার বহুদেশে উঠেছে, আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ আছে, এমনকি ভারতেও বন্ধ করা হয়েছিল, এখনো অনেক দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশে আলজাজিরা সম্প্রচার বন্ধের ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেখুন আমরা তো ব্যবস্থা নিতে পারতাম। অন্যদেশে যেভাবে বন্ধ করা হয় আমাদের দেশে চাইলেই সেভাবে বন্ধ করতে পারতাম, কিন্তু আমরা তা করিনি। কারণ, আমরা গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু, অবাধ স্বাধীনতার পাশাপাশি সমস্ত গণমাধ্যমেরও নিজস্ব দায়িত্ব থাকে। আলজাজিরা এক্ষেত্রে তাদের দায়িত্বশীলতা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা একটি পক্ষ হয়ে কাজ করেছে এবং আমরা যতটুকু শুনেছি সম্ভবত এটির সঙ্গে আরো বহুপক্ষ যুক্ত আছে। সেনাপ্রধানকে টার্গেট করে সরকারের সমালোচনা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, অথচ রিপোর্টের সঙ্গে সরকারের বা প্রধানমন্ত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি আদালতে যায়, সেক্ষেত্রে আদালত থেকে যদি কোনো নির্দেশনা পাই, তাহলে আদালতের নির্দেশনা অবশ্যই পালন করব।

প্রতিবেদন সহযোগীদের মধ্যে ডেভিড বার্গম্যান সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে বার্গম্যানের বিরুদ্ধে বিচার চলছিল। পরে তিনি হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং দেশত্যাগ করে চলে গেছেন। আলজাজিরার রিপোর্টে এক সময় বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের ‘ইসলামি ক্লার্জি’ বা ‘ইসলামি বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ডেভিড বার্গম্যান তাদের পক্ষ নিয়েছিল। আর সেখানে যে মূল বক্তা মিস্টার সামি, তার আরো অনেক নাম আছে। তার ফিরিস্তি আগে আমি জানতাম না, রিপোর্ট হওয়ার পরে সব ফিরিস্তি বেরিয়েছে—কখন তার পিতা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেছেন, কখন তিনি চুরিতে ধরা পড়েছেন। এ ধরনের লোককে নিয়ে যখন রিপোর্ট তৈরি করা হয়, তখন গণমাধ্যমেরই ক্ষতি হয়।

তথ্যমন্ত্রী এ সময় তার সদ্যসমাপ্ত ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।