লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে ক্যারিয়ার শুরু হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের ফল হিসেবেই আজকে পরিপূর্ণ একজন শিল্পী হয়ে উঠেছেন জাকিয়া বারী মম। সম্প্রতি তৌকীর আহমেদের নতুন চলচ্চিত্র ‘স্ফুলিঙ্গ’র কাজ শেষ করলেন। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে আরো কয়েকটি চলচ্চিত্র।
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
কেমন আছেন?
আমি সবসময় ভালো থাকি। যে সময়কে খারাপ থাকা বলে, সেটাও আমি এনজয় করি। একজন মানুষের সব ধরনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে পার হতে হয়। জীবনটা আসলে প্রতিদিনের জার্নি।
এই দীর্ঘ পথে আপনার সমসাময়িকরা তো অনেকেই নিজের অভিনয় ক্যারিয়ার গুটিয়ে নিয়েছেন। কেউ সংসারী হয়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন, কেউ অন্য পেশায়। আপনার এই না থেমে যাওয়াটাও এক বিরল সাফল্য। কারণটা বলবেন কী?
দেখুন, কেউ তো সাফল্য ধরে পথ চলে না। আর আমি কখনো কী পেলাম আর কী পেলাম না, সেদিকে ভেবে কাজ করিনি। কাজটা করে গেছি। নিজের কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে ভেঙেছি। এত এত চরিত্রে কাজ করেছি। নিজেকে এতবার ভেঙেছি! কাজের নেশায় শুধু ভালো কাজ করে গেছি। এখন কে অবসর নিলো, কে আর কাজ করলো না, সেটা তাদের অভিরুচি। এটার ভালো-মন্দ আমি বলতে পারবো না।
অনেকেই বলেন, শোবিজে এক ধরনের সিন্ডিকেট বর্তমান। নির্মাতা-নায়িকা জুটি বা সম্পর্ক-সংসারের ভিত্তিতে কাস্টিং হয়। সেখানে তো শিহাব শাহিন- মম প্রসঙ্গের কথা ওঠে। কেমন লাগে এসব মুখরোচক আলোচনা?
যারা বলছে তারা বলুক, আমি এনজয় করি। আমি তো কারো মুখ আটকাতে পারবো না ভাই। আর একজন শিল্পীর জীবনে এসবে কিছুই যায় আসে না। দিনশেষে ভালো কাজটাই থেকে যায়। তবে এটা আমি দৃঢ়ভাবেই বলতে পারি, বর্তমান সময়ে যারা কাজ করছেন তারা কিন্তু গল্প অনুসারেই কাস্টিং করছেন। আর সমাজে একটা সম্পর্ক থাকতেই পারে। এসব আলোচনায় মূলত কারো কারো মেধার অবমূল্যায়ন করা হয়।
আপনি টিভি নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি বরাবরই চলচ্চিত্রে কাজ করে গেছেন। এখানে নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করেছেন অনেকবার। কেউ কেউ বলেন, দহনের ঐটুকু চরিত্রে কেন কাজ করতে গেলেন? কিংবা জায়েদ খান অভিনীত এমন বাণিজ্যিক ছবিতে কেন কাজ করলেন?
প্রথমে আমি মাঠে নেমে কাজ করে তারপর কথা শুনতে চাই। এখন আমি কোনো বাণিজ্যিক ছবিই করলাম না, অভিজ্ঞতা নিলাম না। অথচ টকশোতে গলাবাজি করলাম, এটা ভালো, ওটা খারাপ। এসবের ভেতরে আমি নেই। আর আমার গলায় কেউ তো ছুরি চালিয়ে বলেনি কেউ যে, ঐ কাজটা করতে পারবে না। একজন শিল্পী ফ্রি বার্ড। আর ‘দহন’ ছবির ব্যাপারে বলবো, আমি তাদের আচরণে খুবই আপসেট। নির্মাতা-প্রযোজক কেউই কোনো কমিটমেন্ট রাখেনি। পলিটিক্যাল গল্পের প্রতি আমার ভীষণ আগ্রহ আছে। সে কারণেই ছবিটিতে কাজ করতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমার অনেক সিকোয়েন্স কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা অন্যায়, ভীষণ অন্যায়!
ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্র তৌকীর আহমেদের পরিচালনায়। দীর্ঘদিনের পরিচয় ও কাজের অভিজ্ঞতার পর আবারো ‘স্ফুলিঙ্গ’ ছবিটির কাজ শেষ করলেন। অভিজ্ঞতা জানতে চাই—
তৌকীর ভাই এদেশের ভীষণ মেধাবী একজন নির্মাতা।—এটা আমার আলাদা করে বলার কিছু নেই। গোটা ইন্ডাস্ট্রিই জানে। তৌকীর ভাইকে আমি সেই সময়ও ভয় পেতাম, এখনো পাই। স্ফুলিঙ্গের কাজের অভিজ্ঞতাটা নিয়ে বলবো, খুব দারুণ একটি প্লট। এই ছবির জন্য গেটআপ চেঞ্জ করেছি। আর তৌকীর ভাইয়ের কাজের ক্ষেত্রে যা হয়, খুব গোছানো প্রডাকশন। পুরো টিমে মনে হয়েছে যে চরিত্রটি যার জন্য ঠিক তাকেই এনে হাজির করেছেন নির্মাতা। পরীমনি প্রসঙ্গে বলবো, খুবই কিউট একটা মেয়ে এবং অভিনয় ভালো করার দারুণ চেষ্টা ওর ভেতরে আছে।
আপনার জন্য শুভকামনা। একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে আপনাকে আরো ব্যস্ত দেখতে চাই। সর্বশেষ এ সময়ের টিভি নাটক শিল্পের ভবিষ্যত্ নিয়ে কী বলতে চান?
দেশের বাইরে তো আছে শুধু চলচ্চিত্র আর টিভি সিরিজ। তাই টিভি নাটক নিয়ে কী বলবো! তবে আশার কথা হলো—একটা সময় নিজের রুচির মাপে গল্প, প্রডাকশন পেতাম না। কিন্তু বর্তমান সময়ে নিজেদের রুচিসম্মত কাজ প্রচুর হচ্ছে। তাই একজন শিল্পী হিসেবে আশাবাদী হতেই পারি।
