এমবাপে-ঝড়ে তছনছ ন্যু ক্যাম্প

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০০

ক্লপ বাহিনীর স্বস্তির জয়

 স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপজয়ী বিস্ময়বালক কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত এক হ্যাট্রিকে বার্সেলোনাকে তাদের ঘরের মাঠে ধরাশায়ী করেছে মউরিসিও পচেত্তিনোর প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে বার্সাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে গত আসরের রানার-আপরা। অন্যদিকে বুদাপেস্টে লাইপজিগের বিপক্ষে স্বস্তির জয় পেয়েছে য়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুল। মোহামেদ সালাহ ও সাদিও মানের গোলে লাইপজিগকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে অলরেডরা। 

চার বছর আগে এই ন্যু ক্যাম্পেই ১-৬ গোলে ধরাশায়ী হয়েছিল পিএসজি। ম্যাচের ২৭ মিনিটে যখন পেনাল্টি থেকে লিওনেল মেসি গোল করে বসল, তখন সেই স্মৃতিই হয়তো উঁকি দিচ্ছিল পিএসজির খেলোয়াড়দের মনে। কিন্তু চার বছর আগের সেই মহারণে যে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপে। ক্লাবের সেই দুঃস্বপ্নের কথা যে মনেও করতে চান না এই বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি, সেটা বুঝিয়ে দিলেন দ্রুতই। ৫ মিনিটের মধ্যেই বার্সা ডিফেন্ডার ক্ল্যামেন লংলেকে বক্সের ভেতর বোকা বানিয়ে গোল করেন এমবাপে। সমতা ফেরানোর পর আর  পেছনে ফিরে তাকায়নি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ১-১ গোল প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার রক্ষণকে নিয়ে এক রকম ছেলেখেলাই শুরু করে এমবাপেরা। ৬৫ মিনিটে বক্সভর্তি বার্সার খেলোয়াড়দের সামনে বা পায়ে শট নিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান ২২ বছর বয়সি এমবাপে। এর পর ৮৫ মিনিটে বক্সের এক প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে পূর্ণ করেন হ্যাট্রিক। পিএসজির হয়ে অপর গোলটি করেছেন এভারটন থেকে লোনে পিএসজিতে যোগ দেওয়া মইস কিন। এমবাপের এই আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে মোটেই অবাক হননি ম্যানেজার মউরিসিও পচেত্তিনো। ম্যাচশেষে তিনি জানালেন, মাঠে নামার আগেই এমবাপে তাকে জানিয়েছিল, তারা জিতবে। প্রতিপক্ষ মাঠে পাওয়া আয়েশী এই জয়ে পিএসজির এক পা এখনই চলে গিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচের দ্বিতীয় লেগ অনুষ্ঠিত হবে পিএসজির ঘরের মাঠে, ১০ মার্চ।

ওদিকে ঘরোয়া লিগের দুঃস্বপ্নকে পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্বস্তির জয় পেয়েছে লিভারপুল। জার্মানিতে চলমান করোনাকালীন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার জন্য বুদাপেস্টের পুসকাস এরিনাকে ঘরের মাঠ বানিয়ে এদিনে মাঠে নেমেছিল রেডবুল লাইপজিগ। কিন্তু এই স্টেডিয়ামকে যে ঘরের মাঠ হিসেবে আপন করে নিতে পারেনি জুলিয়ান নাগলেসম্যানের দল, তা তাদের মাঠের ফুটবল দেখেই বুঝা গিয়েছে। রক্ষণভাগের দুই ভুলে মঙ্গলবার কপাল পুড়েছে জার্মান দলটির। ম্যাচের ৫৩ ও ৫৮ মিনিটে হওয়া ঐ দুই ভুলকে কাজে লাগিয়েই লক্ষ্যভেদ করেছেন লিভারপুলের আক্রমণভাগের দুই প্রাণভোমরা সালাহ ও মানে। এই জয়ে লিভারপুলের কোয়ার্টার ফাইনালও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। ১০ মার্চ দ্বিতীয় লেগ খেলতে নাগলেসম্যানের শিষ্যদের অ্যানফিল্ডে আতিথ্য দেবে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা।