নগর সংস্কৃতি

‘সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কথা তিনি তুলে এনেছেন তার রচনায়’

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৫

প্রয়াত কথাশিল্পী শওকত আলীর স্মরণে গতকাল বুধবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ‘শওকত আলীর কথা সাহিত্য :সামাজিক স্মৃতি, স্বর, রূপান্তর’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক।

জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিক।

কে এম খালিদ বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যের তিনটি আকর উপন্যাস- ‘উত্তরের খেপ’, ‘দক্ষিণায়নের দিন’ এবং ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’-এর মাধ্যমে বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত আলী স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কথা তুলে এনেছেন নিজের রচনায়।

অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যের মানব অভিজ্ঞতালোকে শওকত আলী একটি নক্ষত্রবিন্দু। তার এই নাক্ষত্রিক অবস্থান যেমন ব্যাপ্ত তেমনি দীপ্তিময়।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শওকত আলী ছিলেন একজন দার্শনিক। তার চিন্তা-ভাবনায় ও প্রকাশের ভাষা ছিল মৌলিক। এজন্যই তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র। তিনি সমাজের শোষিত ও নিম্নবর্গের মানুষের জীবনকে বিশ্লেষণ করেছেন।

বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য দেশের ২১৫টি প্রত্নস্থান নির্বাচন

ইউনে?স্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য দেশের আরো ২১৫টি প্রত্নস্থানকে নির্বাচন করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। ‘আপডেটিং দ্য টেনটেটিভ লিস্ট অব বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় এসব স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর অর্থায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৭টি প্রত্নস্থল, বাংলাদেশের মোগল সময়ের ৩০টি মসজিদ, মহাস্থান অঞ্চলের ৮৪টি প্রত্নস্থল লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের ২১টি প্রত্নস্থল, জাতীয় সংসদ ভবন, স্থপতি মাজহারুল ইসলামের নকশাকৃত ১৬টি স্থাপনা, লালবাগ কেল্লা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী তিনটি জলদুর্গ, এবং মোগল এবং ঔপনিবেশিক সময়ের ৩৩টি মন্দির। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওস্থ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আতাউর রহমানে, উপ-পরিচালক মো. আমিরুজ্জামান, অনলাইনে যুক্ত হন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন, ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন প্রমুখ। অনলাইনে ‘সম্ভাব্য তালিকা হালনাগাদকরণ প্রক্রিয়া’ উপস্থাপনা করেন আইসিওএমওএস বাংলাদেশের সভাপতি ড. শরীফ শামস ইমন।

হালনাগাদকৃত তালিকা নিয়ে আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন ও এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ।

সেমিনারে জানানো হয়, তালিকাটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারা স্থানগুলো যাচাই-বাছাই এবং অন্যান্য আইনি জটিলতার পর মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাবগুলোকে ঠিক মনে করবে, সেগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ইউনেস্কোতে পাঠানো হবে।